শিরোনাম

পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা সমাধানে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ৩ কমিটি

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা সমাধানে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ৩ কমিটি
ছবি: সিজেডএন গ্রাফিক্স

পার্বত্য চট্টগ্রামে সন্ত্রাস ও বিচ্ছিন্নতাবাদ দমন করে সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং প্রচলিত আইন, চুক্তির শর্ত ও বিধি-বিধান পর্যালোচনা করে জাতীয় কর্মকৌশল নির্ধারণে তিনটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীকে সভাপতি করে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কমিটি, স্বরাষ্ট্রসচিবকে সভাপতি করে নির্বাহী কমিটি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটির চেয়ারম্যানকে সভাপতি করে পরামর্শক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে এ-সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

জাতীয় কমিটি পার্বত্য চট্টগ্রামসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অগ্রাধিকার নির্ধারণ, আন্তসংস্থা কার্যক্রম তদারকি এবং নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংস্থাগুলোর কার্যপরিধি নির্ধারণের দায়িত্ব পালন করবে। সেইসঙ্গে জাতীয় কর্মকৌশল চূড়ান্ত ও বাস্তবায়নের ব্যবস্থাও করবে এই কমিটি।

নির্বাহী কমিটিকে পার্বত্য চট্টগ্রামে সন্ত্রাস ও বিচ্ছিন্নতাবাদ দমন, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বৃদ্ধি এবং সব সম্প্রদায়ের জীবনমান উন্নয়নে জাতীয় কর্মকৌশল প্রণয়ন করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি টেকসই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান আইন, চুক্তির শর্ত ও বিধি-বিধান পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন, সংস্কার এবং নতুন আইন ও বিধি প্রণয়নের সুপারিশ দিতে বলা হয়েছে।

পরামর্শক কমিটিকে পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন, নিরাপত্তা বিধান, সন্ত্রাস দমন ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার জন্য আগামী দুই মাসের মধ্যে নির্বাহী কমিটিকে সুপারিশ দিতে বলা হয়েছে। এই সুপারিশ নিয়ে নির্বাহী কমিটি আগামী তিন মাসের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কর্মকৌশলের খসড়া প্রণয়ন করে জাতীয় কমিটিকে দেবে। এরপর জাতীয় কমিটি সেই কর্মকৌশল চূড়ান্ত করবে।

জাতীয় কমিটিতে অর্থ ও পরিকল্পনা, স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, ভূমি, আইন এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রীকে সদস্য করা হয়েছে। এছাড়া অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, তিন পার্বত্য জেলা থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং এনএসআই মহাপরিচালককে সদস্য করা হয়েছে।

সেইসঙ্গে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের উপদেষ্টাকে প্রধান সমন্বয়ক এবং ডিজিএফআই মহাপরিচালককে সদস্যসচিব করা হয়েছে।

নির্বাহী কমিটিতে ভূমি, আইন ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক, এনএসআই মহাপরিচালক, বিজিবি ও আনসার-ভিডিপির মহাপরিচালক, ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনারকে সদস্য করা হয়েছে। এছাড়া এসবির অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের অপারেশনস ও পরিকল্পনা পরিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং এনএসআইয়ের পরিচালক (সীমান্ত ও পার্বত্য চট্টগ্রাম) সদস্য হিসেবে থাকবেন।

এই কমিটিতে ডিজিএফআই মহাপরিচালককে প্রধান সমন্বয়ক এবং সোশ্যাল স্ট্যাবিলিটি ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর পরিচালককে সদস্যসচিব করা হয়েছে।

পরামর্শক কমিটিতে থাকবেন পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের চেয়ারম্যান, ভারত প্রত্যাগত উপজাতীয় শরণার্থী প্রত্যাবাসন ও পুনর্বাসন এবং অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু নির্দিষ্টকরণ ও পুনর্বাসনবিষয়ক টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান। এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি থাকবেন।

এছাড়া বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাম্যাচিং, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার এবং খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ম্রাসা থোয়াই মারমাকে সদস্য করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, তিন কমিটিই প্রয়োজন অনুযায়ী সশস্ত্র বাহিনী, নিরাপত্তা বাহিনী, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তা বা প্রয়োজনীয় ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সদস্য কিংবা সহায়তাদানকারী কর্মকর্তা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে।

জাতীয় ও নির্বাহী কমিটির সচিবালয়ের প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামোগত সুবিধা দেবে ডিজিএফআই। তবে সভাপতির নির্দেশে পরবর্তী সময়ে অন্য গোয়েন্দা সংস্থা, নিরাপত্তা বাহিনী বা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্ধারিত মেয়াদে সচিবালয়ের দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে।

প্রয়োজন অনুযায়ী পরামর্শক কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এ কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবে।

/জেএইচ/