শিরোনাম

সেই ভয়াল নাইন ইলেভেনের ২৫ বছর আজ

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
সেই ভয়াল নাইন ইলেভেনের ২৫ বছর আজ
ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার

আজ ১১ সেপ্টেম্বর, সেই ভয়াল নাইন ইলেভেনের ২৫তম বার্ষিকী। ২০০১ সালের এই দিনে যাত্রীবাহী চারটি বিমান ছিনতাই করে একযোগে নিউইয়র্কের টুইন টাওয়ার (ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার) ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তর পেন্টাগনে হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এটি সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী হামলা।

ওই হামলায় তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত হন। তাদের মধ্যে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নাগরিক ছিলেন। ভয়াবহ ওই হামলায় কয়েক কোটি ডলারের সমপরিমাণ সম্পদ ও অবকাঠামো ধ্বংস হয়। এ হামলার জন্য আল-কায়েদাকে দায়ী করা হয়।

অভিযোগ আছে, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আল-কায়েদা সদস্যরা চারটি যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাই করে। এসব বিমান নিয়ে নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ার নামে পরিচিত দুটি ভবনে হামলা চালায়। অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই ভবন দুটি মাটির সঙ্গে মিশে যায়।

তৃতীয় বিমানটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনে আঘাত হানে। এতে ভবনের পশ্চিম পাশের কিছু অংশ ধসে পড়ে। চতুর্থ বিমানটির লক্ষ্য ছিল ওয়াশিংটনে হামলার। কিন্তু যাত্রীদের প্রতিরোধের কারণে সেটি পেনসিলভানিয়ার শাঙ্কসভিলে বিধ্বস্ত হয়।

সন্ত্রাসী হামলার ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই বিমান ছিনতাইকারীদের শনাক্ত করে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)। ২৭ সেপ্টেম্বর এফবিআই ১৯ ছিনতাইকারীর ছবি প্রকাশ করে। তাদের মধ্যে ১৫ জনই ছিলেন সৌদি আরবের নাগরিক।

এফবিআইয়ের তদন্তে বলা হয়, হামলাকারী ১৯ জনের মধ্যে ১১ জনই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আগে নতুন করে পাসপোর্ট করেছিলেন। আফগানিস্তানে সফরের রেকর্ড মুছে ফেলতেই তারা এই কাজ করেছিলেন বলে ধারণা করা হয়। হামলার আগে তারা ৩৪ বারের মধ্যে ৩৩ বারই সফলভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন।

নাইন ইলেভেন ভয়াবহ এই হামলার পর বিশ্বব্যাপী জঙ্গিবাদবিরোধী যুদ্ধ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। এরই অংশ হিসেবে ২০০১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান ও ২০০৩ সালে ইরাকে সাদ্দাম হোসেন সরকারের পতন ঘটায় দেশটি। এই যুদ্ধের অংশ হিসেবে ২০১১ সালে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনকে হত্যা করে দেশটির সামরিক বাহিনীর একটি দল। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ ‘অবৈধ ও অনৈতিক’। এই যুদ্ধে বিনা বিচারে অসংখ্য মানুষ নির্যাতনের শিকার হন।

/জেএইচ/