অপচিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর অভিযোগ, তদন্ত কমিটি করলো স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

অপচিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর অভিযোগ, তদন্ত কমিটি করলো স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
বিশেষ প্রতিনিধি

হেলথ রেভ্যুলেশন লিমিটেডের মালিক ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের অপচিকিৎসায় সুখী বেগম (৩৬) নামে এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. ইন্দ্রজিৎ প্রসাদসহ ৮ জন চিকিৎসক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে ৬ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. মো. নূরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. মনির উজ জামানকে প্রধান করে ৬ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে আগামী ১০ কর্মদিবসে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কমিটির অপর সদস্যরা হলেন- শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি (ডায়াবেটিস, থাইরয়েড ও হরমোন রোগ) বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এম এ হালিম খান, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হাসান হাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নূর জাহান বানু, বারডেম হাসপাতালের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আজিমুন্নেসা ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (হাসপাতাল–১) ডা. মাহমুদুর রহমান।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ৭ মে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. ইন্দ্রজিৎ প্রসাদসহ ৮ জন চিকিৎসক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক)বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে চিকিৎসকরা বলেন, সুখী বেগম ৯ বছর ধরে ডায়াবেটিস মেলিটাস রোগে ভুগছিলেন। চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি ইনসুলিন ব্যবহার করতেন। অনলাইনের মাধ্যমে হেলথ রেভ্যুলেশন লিমিটেডের সন্ধান পেয়ে তাদের কাছে ডায়াবেটিসের চিকিৎসা নিতে যান। তখন তারা চলমান ইনসুলিনসহ অন্যান্য ওষুধ বন্ধ করে কিটোডায়েট খাদ্য তালিকা মেনে চলার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে তারা রোগীকে অধিক দামের কিছু সাপ্লিমেন্ট দেন। এই চিকিৎসা শুরুর পর রোগীর ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে যায়। মারাত্মক জটিলতা নিয়ে গত ২ ফেব্রুয়ারি সুখী বেগম ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯ ফেব্রুয়ারি তার মৃত্যু হয়। ওই রোগী অপচিকিৎসার শিকার হয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং জটিলতার কারণে মারা গেছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালকের কাছে পাঠানো ওই লিখিত অভিযোগের চিঠিতে স্বাক্ষর করেন ডা. এম সাইফুদ্দিন, ডা. মির্জা শরীফুজ্জামান, ডা. মঈনুল ইসলাম, ডা. ফিরোজ হোসাইন, ডা. কমলেশ চন্দ্র বসু, ডা. তানজিনা জান্নাত শাাম্মী ও ডা. কেমএম ইশতিয়াক রোহান। চিঠির সঙ্গে ল্যাবরেটরির রিপোর্ট, চিকিৎসাপত্র ও ফুড সাপ্লিমেন্টের ছবিও দেওয়া হয়।
শুধু ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালই নয়, গত ১৭ আগষ্ট অপচিকিৎসা বন্ধ ও রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ অ্যান্ডোক্রাইন সোসাইটি।
এছাড়া গত ২৪ আগষ্ট সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের প্রধান হেলথ রেভ্যুলেশন লিমিটেডের মালিক ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের অপচিকিৎসা বন্ধের দাবি জানিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। ২৭ আগষ্ট ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের প্রধান হেলথ রেভ্যুলেশন লিমিটেডের চিকিৎসক ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু বিষয়টি তুলে ধরে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল–বিএমডিসির সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টা ২০ মিনিটে সিজেডএন টোয়েন্টিফোরের পক্ষ থেকে ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের মালিকানাধীন হেলথ রেভুলেশন সেন্টারের হটলাইন কল দিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তদন্ত কমিটি ও সুখী বেগমের মৃত্যুর বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। ওই সময় হটলাইনে প্রতিষ্ঠানটির এজেন্ট পরিচয়দানকারী আতিকুর রহমান সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমাদের এখানে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তবে এ ঘটনার কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। তাছাড়া আমরা রোগীকে কোনো ওষুধ দেইনা। আমরা শুধু সাপ্লিমেন্ট দেই।’
এ বিষয়ে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডা. জাহাঙ্গীর কবির দাবি করেছেন, অভিযোগকারী ব্যক্তি ও ব্যক্তিবর্গ, বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কোথাও ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের নাম উল্লেখ করেনি। ওই নোটিশের সূত্র ব্যবহার করে বেশ কিছু গণমাধ্যমে তার নাম ও ছবি ব্যবহার করে সংবাদ প্রকাশ করেছে। একইসঙ্গে ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের ছবি ও নাম ব্যবহারের মাধ্যমে এমনভাবে সংবাদ পরিবেশন করায় তার দীর্ঘদিনের অর্জিত সুনাম ক্ষুন্ন হয়েছে।

হেলথ রেভ্যুলেশন লিমিটেডের মালিক ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের অপচিকিৎসায় সুখী বেগম (৩৬) নামে এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. ইন্দ্রজিৎ প্রসাদসহ ৮ জন চিকিৎসক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে ৬ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. মো. নূরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. মনির উজ জামানকে প্রধান করে ৬ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে আগামী ১০ কর্মদিবসে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কমিটির অপর সদস্যরা হলেন- শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি (ডায়াবেটিস, থাইরয়েড ও হরমোন রোগ) বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এম এ হালিম খান, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হাসান হাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নূর জাহান বানু, বারডেম হাসপাতালের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আজিমুন্নেসা ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (হাসপাতাল–১) ডা. মাহমুদুর রহমান।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ৭ মে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. ইন্দ্রজিৎ প্রসাদসহ ৮ জন চিকিৎসক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক)বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে চিকিৎসকরা বলেন, সুখী বেগম ৯ বছর ধরে ডায়াবেটিস মেলিটাস রোগে ভুগছিলেন। চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি ইনসুলিন ব্যবহার করতেন। অনলাইনের মাধ্যমে হেলথ রেভ্যুলেশন লিমিটেডের সন্ধান পেয়ে তাদের কাছে ডায়াবেটিসের চিকিৎসা নিতে যান। তখন তারা চলমান ইনসুলিনসহ অন্যান্য ওষুধ বন্ধ করে কিটোডায়েট খাদ্য তালিকা মেনে চলার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে তারা রোগীকে অধিক দামের কিছু সাপ্লিমেন্ট দেন। এই চিকিৎসা শুরুর পর রোগীর ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে যায়। মারাত্মক জটিলতা নিয়ে গত ২ ফেব্রুয়ারি সুখী বেগম ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯ ফেব্রুয়ারি তার মৃত্যু হয়। ওই রোগী অপচিকিৎসার শিকার হয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং জটিলতার কারণে মারা গেছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালকের কাছে পাঠানো ওই লিখিত অভিযোগের চিঠিতে স্বাক্ষর করেন ডা. এম সাইফুদ্দিন, ডা. মির্জা শরীফুজ্জামান, ডা. মঈনুল ইসলাম, ডা. ফিরোজ হোসাইন, ডা. কমলেশ চন্দ্র বসু, ডা. তানজিনা জান্নাত শাাম্মী ও ডা. কেমএম ইশতিয়াক রোহান। চিঠির সঙ্গে ল্যাবরেটরির রিপোর্ট, চিকিৎসাপত্র ও ফুড সাপ্লিমেন্টের ছবিও দেওয়া হয়।
শুধু ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালই নয়, গত ১৭ আগষ্ট অপচিকিৎসা বন্ধ ও রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ অ্যান্ডোক্রাইন সোসাইটি।
এছাড়া গত ২৪ আগষ্ট সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের প্রধান হেলথ রেভ্যুলেশন লিমিটেডের মালিক ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের অপচিকিৎসা বন্ধের দাবি জানিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। ২৭ আগষ্ট ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের প্রধান হেলথ রেভ্যুলেশন লিমিটেডের চিকিৎসক ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু বিষয়টি তুলে ধরে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল–বিএমডিসির সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টা ২০ মিনিটে সিজেডএন টোয়েন্টিফোরের পক্ষ থেকে ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের মালিকানাধীন হেলথ রেভুলেশন সেন্টারের হটলাইন কল দিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তদন্ত কমিটি ও সুখী বেগমের মৃত্যুর বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। ওই সময় হটলাইনে প্রতিষ্ঠানটির এজেন্ট পরিচয়দানকারী আতিকুর রহমান সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমাদের এখানে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তবে এ ঘটনার কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। তাছাড়া আমরা রোগীকে কোনো ওষুধ দেইনা। আমরা শুধু সাপ্লিমেন্ট দেই।’
এ বিষয়ে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডা. জাহাঙ্গীর কবির দাবি করেছেন, অভিযোগকারী ব্যক্তি ও ব্যক্তিবর্গ, বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কোথাও ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের নাম উল্লেখ করেনি। ওই নোটিশের সূত্র ব্যবহার করে বেশ কিছু গণমাধ্যমে তার নাম ও ছবি ব্যবহার করে সংবাদ প্রকাশ করেছে। একইসঙ্গে ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের ছবি ও নাম ব্যবহারের মাধ্যমে এমনভাবে সংবাদ পরিবেশন করায় তার দীর্ঘদিনের অর্জিত সুনাম ক্ষুন্ন হয়েছে।

অপচিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর অভিযোগ, তদন্ত কমিটি করলো স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
বিশেষ প্রতিনিধি

হেলথ রেভ্যুলেশন লিমিটেডের মালিক ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের অপচিকিৎসায় সুখী বেগম (৩৬) নামে এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. ইন্দ্রজিৎ প্রসাদসহ ৮ জন চিকিৎসক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে ৬ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. মো. নূরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. মনির উজ জামানকে প্রধান করে ৬ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে আগামী ১০ কর্মদিবসে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কমিটির অপর সদস্যরা হলেন- শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি (ডায়াবেটিস, থাইরয়েড ও হরমোন রোগ) বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এম এ হালিম খান, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হাসান হাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নূর জাহান বানু, বারডেম হাসপাতালের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আজিমুন্নেসা ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (হাসপাতাল–১) ডা. মাহমুদুর রহমান।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ৭ মে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. ইন্দ্রজিৎ প্রসাদসহ ৮ জন চিকিৎসক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক)বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে চিকিৎসকরা বলেন, সুখী বেগম ৯ বছর ধরে ডায়াবেটিস মেলিটাস রোগে ভুগছিলেন। চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি ইনসুলিন ব্যবহার করতেন। অনলাইনের মাধ্যমে হেলথ রেভ্যুলেশন লিমিটেডের সন্ধান পেয়ে তাদের কাছে ডায়াবেটিসের চিকিৎসা নিতে যান। তখন তারা চলমান ইনসুলিনসহ অন্যান্য ওষুধ বন্ধ করে কিটোডায়েট খাদ্য তালিকা মেনে চলার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে তারা রোগীকে অধিক দামের কিছু সাপ্লিমেন্ট দেন। এই চিকিৎসা শুরুর পর রোগীর ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে যায়। মারাত্মক জটিলতা নিয়ে গত ২ ফেব্রুয়ারি সুখী বেগম ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯ ফেব্রুয়ারি তার মৃত্যু হয়। ওই রোগী অপচিকিৎসার শিকার হয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং জটিলতার কারণে মারা গেছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালকের কাছে পাঠানো ওই লিখিত অভিযোগের চিঠিতে স্বাক্ষর করেন ডা. এম সাইফুদ্দিন, ডা. মির্জা শরীফুজ্জামান, ডা. মঈনুল ইসলাম, ডা. ফিরোজ হোসাইন, ডা. কমলেশ চন্দ্র বসু, ডা. তানজিনা জান্নাত শাাম্মী ও ডা. কেমএম ইশতিয়াক রোহান। চিঠির সঙ্গে ল্যাবরেটরির রিপোর্ট, চিকিৎসাপত্র ও ফুড সাপ্লিমেন্টের ছবিও দেওয়া হয়।
শুধু ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালই নয়, গত ১৭ আগষ্ট অপচিকিৎসা বন্ধ ও রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ অ্যান্ডোক্রাইন সোসাইটি।
এছাড়া গত ২৪ আগষ্ট সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের প্রধান হেলথ রেভ্যুলেশন লিমিটেডের মালিক ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের অপচিকিৎসা বন্ধের দাবি জানিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। ২৭ আগষ্ট ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের প্রধান হেলথ রেভ্যুলেশন লিমিটেডের চিকিৎসক ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু বিষয়টি তুলে ধরে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল–বিএমডিসির সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টা ২০ মিনিটে সিজেডএন টোয়েন্টিফোরের পক্ষ থেকে ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের মালিকানাধীন হেলথ রেভুলেশন সেন্টারের হটলাইন কল দিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তদন্ত কমিটি ও সুখী বেগমের মৃত্যুর বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। ওই সময় হটলাইনে প্রতিষ্ঠানটির এজেন্ট পরিচয়দানকারী আতিকুর রহমান সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমাদের এখানে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তবে এ ঘটনার কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। তাছাড়া আমরা রোগীকে কোনো ওষুধ দেইনা। আমরা শুধু সাপ্লিমেন্ট দেই।’
এ বিষয়ে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডা. জাহাঙ্গীর কবির দাবি করেছেন, অভিযোগকারী ব্যক্তি ও ব্যক্তিবর্গ, বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কোথাও ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের নাম উল্লেখ করেনি। ওই নোটিশের সূত্র ব্যবহার করে বেশ কিছু গণমাধ্যমে তার নাম ও ছবি ব্যবহার করে সংবাদ প্রকাশ করেছে। একইসঙ্গে ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের ছবি ও নাম ব্যবহারের মাধ্যমে এমনভাবে সংবাদ পরিবেশন করায় তার দীর্ঘদিনের অর্জিত সুনাম ক্ষুন্ন হয়েছে।

দেশের সব হাসপাতালকে দালালমুক্ত করার ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর






