বৃষ্টিতে চড়া সবজির দাম, কাঁচামরিচে ডাবল সেঞ্চুরি
বৃষ্টিতে চড়া সবজির দাম, কাঁচামরিচে ডাবল সেঞ্চুরি
টানা বৃষ্টির কারণে বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় হু হু করে বাড়ছে সবজির দাম। বর্তমানে বাজারে বেশিরভাগ সবজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকার ওপরে।

-CznNewsLab-591d73-480x270.webp)
সপ্তাহের ব্যবধানে বেশিরভাগ সবজির দাম কমেছে। তবে ডজনে ৫ থেকে ১০টাকা বেড়েছে ডিমের দাম। আর সোনালী মুরগির দাম বেড়েছে ২০ থেকে ৩০ টাকা। অন্যদিকে চিংড়ি ও ইলিশসহ সব ধরনের নদীর মাছের দাম ক্রেতাদের নাগালের বাইরে।

সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজ, মরিচসহ কিছু সবজির দাম কমলেও বাজারের সার্বিক অবস্থা স্বস্তিদায়ক নয়। টমেটো ও গাজরে প্রতি কেজিতে দাম বেড়েছে

বৈরী আবহাওয়ার প্রভাব কাটতে শুরু করায় কিছুটা কমেছে কাঁচা মরিচ ও সবজির দাম। তবে গত সপ্তাহের তুলনায় বেড়েছে মুরগিসহ বেশকিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। ফলে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে ফেরেনি স্বস্তি ।

সপ্তাহ ঘুরতে না ঘুরতেই মাছের দামে আবারও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। সরবরাহ কমে যাওয়ায় অধিকাংশ মাছের দাম কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতারা। তবে স্বস্তির খবর হলো সবজি ও মাংসের বাজারে তেমন কোনো পরিবর্তন নেই।
টানা বৃষ্টির কারণে বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় হু হু করে বাড়ছে সবজির দাম। বর্তমানে বাজারে বেশিরভাগ সবজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকার ওপরে।

অতিবৃষ্টির কারণে বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় হু হু করে বাড়ছে সবজির দাম। বর্তমানে বাজারে বেশিরভাগ সবজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকার ওপরে। ফলে নিত্যপণ্যের বাজারে বাড়তি খরচের চাপে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।

নতুন এ দাম আজ দুপুর ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি দোকানে দৃশ্যমান স্থানে হালনাগাদ মূল্য তালিকা টানিয়ে রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম।

উচ্চ মূল্যস্ফীতি, কম বিনিয়োগ, জিডিপির নিম্নমুখী প্রবৃদ্ধি ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হওয়ার কারণে দেশের অর্থনীতি অনেকটা স্থবির। এরই নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে ঈদুল আজহার বাজারে।

ঈদ সামনে রেখে রাজধানীর বিপণিবিতানগুলোতে প্রত্যাশিত বিক্রি নেই। বিশেষ করে এই ঈদে ফ্রিজ ও চলতি বছরের ফিফা বিশ্বকাপ উপলক্ষে টেলিভিশন বিক্রিও আশানুরূপ নয়।

ঈদ মানেই আনন্দ, উৎসব আর পরিবারকে ঘিরে বিশেষ আয়োজন। আর কোরবানির ঈদে সেই আয়োজনের বড় অংশজুড়ে থাকে বাহারি মসলার গন্ধে ভরা রান্না। কিন্তু এবারের ঈদে রান্নাঘরের সেই সুগন্ধ যেন অনেক পরিবারের জন্য হয়ে উঠেছে বাড়তি দুশ্চিন্তার কারণ। বাজারে মসলার ঝাঁঝের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে দামও।

সাধারন মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে নিত্যপণ্যের বাজার। সপ্তাহের ব্যবধানে ভোজ্যতেলে খরচ বেড়েছে আরও ২৫ টাকা। নিন্মবিত্তের পাশাপাশি মধ্যবিত্তরাও হিমসিম খাচ্ছে রান্নার জোগানে। এদিকে সপ্তাহের শেষে দাম বেড়েছে চিনিগুড়া চাল, গাজর, টমেটো ও গ্যাস সিলেন্ডারের।

নিম্নমানের যন্ত্রাংশ ব্যবহার, ঘন ঘন কম্প্রেসর বিকল হওয়া এবং বিক্রয়োত্তর সেবার নামে গ্রাহক হয়রানির কারণে দেশি ব্র্যান্ডগুলোর ওপর থেকে আস্থা হারাচ্ছেন মধ্যবিত্ত ও উচ্চ-মধ্যবিত্ত শ্রেণির ভোক্তারা।

রাজধানীর খুচরা বাজারগুলোতে আবারও বেড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। বিশেষ করে সবজির বাজারে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতিতে চাপে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। বাজারে ১০০ টাকার নিচে সবজি মিলছে খুব কম। একই সঙ্গে ডিম ও পেঁয়াজের দাম বাড়ায় মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের ভোগান্তি আরও বেড়েছে।

কারওয়ানবাজারে প্রতি কেজি ঢেঁড়স ৭০ টাকায় বিক্রি হলেও জিগাতলায় তা ৯০ থেকে ১০০ টাকায় উঠেছে। করলা ৮০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১০০ টাকা, ৭০ টাকার পটোল হয়েছে ৯০ টাকা।

নতুন দাম বৃহস্পতিবার (৭ মে) মধ্যরাত থেকে কার্যকর হবে, যা পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

বাজারে প্রায় সব পণ্যের অগ্নিমূল্যে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। ভোগ্যপণ্য, কাঁচাবাজার, মাছ-মাংস, জ্বালানি– সব কিছুরই দাম বেড়েছে। ক্রেতাদের অভিযোগ, কোনো পণ্যই এখন হাতের নাগালে নেই।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা নিয়ে পরস্পরবিরোধী অবস্থানের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে আবারও অস্থিরতা বেড়েছে। বৈশ্বিক মানদণ্ডে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৭ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জানান, ‘আমাদের কাছে তেল নেই –তা নয়, কিন্তু আমরা যে দামে কিনছি, তা সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি। ফলে জরিমানা এড়াতে আমরা তেল বিক্রি সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছি।’

শাক-সবজি থেকে শুরু করে চাল, ডাল, মাছ-মাংসসহ প্রায় সব নিত্যপণ্যের দামই এখন ঊর্ধ্বমুখী। এমন পরিস্থিতিতে বাজারে এসে রীতিমতো হা-হুতাশ করছে ক্রেতারা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সরকার নির্ধারিত মূল্য উপেক্ষা করে প্রতি লিটার সয়াবিন তেল ৩০ থেকে ৩৪ টাকা বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। কোথাও আবার বোতলজাত তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে।

ঈদুল ফিতরের আগে থেকে শুরু হওয়া ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধির প্রবণতা এখন অব্যহত রয়েছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে খুচরা বাজারে খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি প্রায় ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে পাম তেলের দামও। তেলের দামের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাজারে উত্তাপ ছড়াচ্ছে মাংস ও সবজি।

এলপিজির মূল্য সমন্বয় সম্পর্কে বিইআরসি-এর নির্দেশনা বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় ঘোষণা করা হবে।
