শিরোনাম

আত্মহত্যার ঝুঁকিতে মার্কিন রণতরির ৫ হাজার সেনা

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
আত্মহত্যার ঝুঁকিতে মার্কিন রণতরির ৫ হাজার সেনা
বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন

সাগরের বুকে কেটে গেছে টানা ২৫০ দিনেরও বেশি সময়, কিন্তু বাড়ি ফেরার কোনো নামগন্ধ নেই। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে থাকা মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ এর ভেতরে এখন ছড়িয়ে পড়েছে তীব্র মানসিক বিপর্যয়। দীর্ঘ সময় মোতায়েন, চরম ক্লান্তি আর অনিশ্চয়তায় ভাসতে থাকা প্রায় ৫ হাজার সেনাসদস্যের অনেকেই বেঁচে থাকার আশা হারিয়ে ফেলছেন। এমনকি সমুদ্রের জলে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা ঠেকানোর মতো ঘটনাও ঘটছে এ রণতরিতে।

ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের হ্যাঙ্গার বে-তে  যুদ্ধবিমানের রক্ষণাবেক্ষণ করছেন নাবিকেরা।
ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের হ্যাঙ্গার বে-তে যুদ্ধবিমানের রক্ষণাবেক্ষণ করছেন নাবিকেরা।

সম্প্রতি সান ডিয়েগোতে আয়োজিত এক টাউন হল সভায় মার্কিন নৌবাহিনীর শীর্ষ কর্তাদের সামনে ক্ষোভ ও কান্নায় ভেঙে পড়েন নাবিকদের স্বজনেরা। সভায় এক নাবিকের স্ত্রী জানান, তার স্বামী বার্তা পাঠিয়েছেন ‘আশা করি কাল যেন আমার আর ঘুম না ভাঙে।’ আরেক ঘটনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রহরীরা এক সেনাসদস্যকে সাগরে ঝাঁপ দেওয়া থেকে টেনে তোলেন, যা পরে জাহাজের লাউডস্পিকারেও জানানো হয়। প্রিয়জনদের এমন পরিস্থিতির জন্য নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি হাং কাওসহ ঊর্ধ্বতন কর্তাদের কাঠগড়ায় তোলেন ক্ষুব্ধ পরিবারগুলো।

প্রশান্ত মহাসাগরের উদ্দেশে রওনা দেওয়া এ বিশাল জাহাজটিকে গত জানুয়ারিতে হঠাৎ করেই মধ্যপ্রাচ্যের আরব সাগরে পাঠানো হয়। মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের অধীনে সরাসরি যুদ্ধাভিযানে অংশ নেওয়ার পর রসদ সংগ্রহ বা সামান্য বিশ্রামের জন্য ক্রু সদস্যদের কোনো বিরতি দেওয়া হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি দেড়-দুই মাসে জাহাজের কোনো না কোনো বন্দরে নোঙর করার কথা থাকলেও, দীর্ঘ আট মাসের বেশি সময় ধরে বিরতিহীনভাবে সমুদ্রে ভাসছেন তারা। এর ওপর যুক্ত হয়েছিল তীব্র পানিসংকট, মানহীন খাবার আর টানা এক সপ্তাহ কাপড় ধুতে না পারার মতো পরিস্থিতি।

বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের ফ্লাইট ডেক থেকে উড্ডয়ন করছে একটি যুদ্ধবিমান।
বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের ফ্লাইট ডেক থেকে উড্ডয়ন করছে একটি যুদ্ধবিমান।

নৌবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা মেনে নিয়েছেন যুদ্ধ পরিস্থিতিতে রসদ পৌঁছানো কিছুটা কঠিন ছিল, তবে এখন জাহাজে খাবার ও পানির সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক করা হয়েছে। পরিবারের উদ্বেগের জবাবে তারা জানান, পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে জাহাজে অতিরিক্ত মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও চ্যাপলিন পাঠানো হচ্ছে। কিন্তু কবে নাগাদ ঘরে ফিরতে পারবেন সেনারা? এমন প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গেছেন মার্কিন নৌবাহিনীর কর্মকর্তারা।

সামরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতার চেয়েও সেনাসদস্যদের বেশি দুর্বল করছে বাড়ি ফেরার অনিশ্চয়তা। কোনো বিরতি ছাড়া অনির্দিষ্টকাল সাগরে ভেসে থাকলে মানুষের মনের জোর একসময় তলানিতে পৌঁছায়। আব্রাহাম লিংকনের ক্রুরা এখন আর মনোরম কোনো তীরে নামার সুযোগ চান না। তারা চান দেশের মাটিতে পা রাখার একটি সুনির্দিষ্ট তারিখ।

সূত্র: এনবিসি নিউজ

/এমএকে/