
সিজেডএন স্পোর্টস ডেস্ক


মরক্কোর বিপক্ষে ড্র দিয়ে শুরুর পর কিছুটা চাপেই ছিল ব্রাজিল। এবার বিশ্বকাপে জয়ে ফিরলো তারা। ‘সি’ গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ব্রাজিল ৩-০ তে হারিয়েছে হাইতিকে। জোড়া গোল করেছেন মাতেউস কুনিয়া। অপরটি করেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।
এই জয়ে পয়েন্ট টেবিলেও শীর্ষে উঠেছে কার্লো আনচেলত্তির দল। সমান দুটি করে ম্যাচ শেষে ব্রাজিল ও মরক্কোর পয়েন্ট ৪ করে। তবে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে শীর্ষে ব্রাজিল। ৩ পয়েন্টে তিনে স্কটল্যান্ড। দুই ম্যাচ থেকে কোনো পয়েন্ট পায়নি হাইতি।
ফিলাডেলফিয়াতে ম্যাচের শুরুতেই সুযোগ পেয়েছিলেন রাফিনিয়া। হাইতির রক্ষণকে ফাঁকি দিয়ে গোলকিপারকে একা পেয়ে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু চিপ করতে গিয়ে বল পোস্টের অনেক বাইরে দিয়ে মেরে দেন তিনি। ১১ মিনিটে রাফিনিয়া বল জালে পাঠালেও অফসাইডে বাতিল হয় সেটি।
২৩ মিনিটে অবশেষে গোলের দেখা পায় ব্রাজিল। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের শট প্রথমে ঠেকিয়ে দিয়েছিলেন হাইতির গোলকিপার জনি প্লাসিদে। তবে ফিরতি বলে গোল করেন মাতেউস কুনিয়া।
৩৬ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন কুনিয়া। মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে এগিয়ে যাওয়া ভিনি জুনিয়র বল বাড়ান কুনিয়াকে। বক্সে ঢুকে বাঁ-পায়ের দারুণ শটে বল জালে জড়ান তিনি।
৩৯তম মিনিটে চোট পেয়ে উঠে যান রাফিনিয়া। ধারাভাষ্যকাররা বলছিলেন, হয়তো সতর্কতার জন্যই বার্সেলোনার ফরোয়ার্ডকে তুলে নিচ্ছেন কোচ। তবে কারও সঙ্গে লেগে বা দৃশ্যমান কোনো ঘটনায় এই চোট হয়নি। যেটির মানে, হ্যামস্ট্রিংয়ে টান লাগতে পারে তার।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে গোল করেন ভিনি জুনিয়র নিজেও। পাকেতার পাস থেকে বক্সে ঢুকে গোলরক্ষককে একা পেয়ে যান তিনি। দারুণ ফিনিশে দলের তৃতীয় গোলটি করেন। এর আগের দুই গোলেও সহায়তা ছিল ভিনির। চলতি বিশ্বকাপে এটি ভিনিসিয়ুসের দ্বিতীয় গোল মরক্কোর বিপক্ষে সমতা ফেরানো গোল করেছিলেন তিনি।
২৪ বছর পর আবার বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের কোনো ম্যাচের প্রথমার্ধেই ৩ গোল করলো সেলেসাওরা। ২০০২ বিশ্বকাপে (যেবার ব্রাজিল তাদের পঞ্চম ও শেষ বিশ্বকাপ জিতেছিল) গ্রুপ পর্বে কোস্টারিকার বিপক্ষে ৫-২ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে প্রথমার্ধে ৩টি গোল করেছিল ব্রাজিল। এরপর গত পাঁচটি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে ব্রাজিল ম্যাচ জিতলেও প্রথমার্ধে এমন বিধ্বংসী রূপে দেখা যায়নি তাদের।
বিরতির পর হাইতির কোচ সেবাস্তিয়ান মিগনের কৌশলগত পরিবর্তন আনেন। হাইতি গোলের সেরা সুযোগটি পায় ৬৪ মিনিটে। কর্নার থেকে অনেকটা লাফিয়ে হেড করেন রিকার্ডো আদে। দারুণ রিফ্লেক্সে তা ফিরিয়ে দেন অ্যালিসন বেকার। তবে দলকে পুরো বিপদমুক্ত করতে পারেননি ব্রাজিলের গোলকিপার, বল ভেসে ওঠে ওপরে। ছুটে এসে বল ক্লিয়ার করে দলকে রক্ষা করেন দানিলো।
৬৫ মিনিটে কুনিয়া ও পাকেতাকে উঠিয়ে এনদ্রিক ও গাব্রিয়েল মার্তিনেল্লিকে নামান কোচ আনচেলত্তি। তিন মিনিট পর ভিনিসিউসের নান্দনিক ব্যাক হিল থেকে মার্তিনেল্লির তার জোরাল শট ক্রসবারে লেগে ফেরত আসে।
ম্যাচের ৭৮ মিনিটে হাইতির জালে বল পাঠান বদলি নামা এনদ্রিক। তবে আবারও অফসাইডের পতাকা তোলেন লাইন্সম্যান। শেষ পর্যন্ত তিন গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে নেইমারকে ছাড়া খেলতে নামা ব্রাজিল।
ম্যাচের ৭৮ মিনিটে হাইতির জালে বল পাঠান বদলি নামা এনদ্রিক। তবে আবারও অফসাইডের পতাকা তোলেন লাইন্সম্যান।
ম্যাচে এ নিয়ে ব্রাজিলের দুইটি গোল বাতিল হলো অফসাইডে। এর আগে রাফিনিয়ার গোল বাতিল হয়েছিল একই কারণে।
৬৪ মিনিটে দুটি পরিবর্তন এনেছেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। জোড়া গোল করা কুনিয়া এবং লুকাস পাকেতাকে বদলি করেছেন আনচেলত্তি। তাদের দুজনের বদলে মাঠে নেমেছেন এনদ্রিক ও গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি। পরের মিনিটেই হলুদ কার্ড দেখেন ব্রাজিলের ডিফেন্ডার ডগলাস সান্তোস।
ফিলাডেলফিয়ার আজ হাইতির বিপক্ষে ২৪ বছর আগের স্মৃতি ফেরালো ব্রাজিল। ২৪ বছর পর আবার বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের কোনো ম্যাচের প্রথমার্ধেই ৩ গোল করলো সেলেসাওরা।
সর্বশেষ ২০০২ বিশ্বকাপে (যেবার ব্রাজিল তাদের পঞ্চম ও শেষ বিশ্বকাপ জিতেছিল) গ্রুপ পর্বে কোস্টারিকার বিপক্ষে ৫-২ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে প্রথমার্ধে ৩টি গোল করেছিল ব্রাজিল। এরপর গত পাঁচটি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে ব্রাজিল ম্যাচ জিতলেও প্রথমার্ধে এতটা বিধ্বংসী রূপে দেখা যায়নি তাদের।

ব্রাজিলের সবশেষ বিশ্বকাপ জয়ের দুই নায়ক রোনালদো নাজারিও আর রোনালদিনিও আছেন গ্যালারিতে। একসঙ্গে বসে দেখছেন হাইতির বিপক্ষে ম্যাচ। প্রথমার্ধে ৩ গোলের লিড পাওয়ায় খুশিই হবেন তারা।

প্রথমার্ধে যোগ করা সময়ের ৩ মিনিটে হাইতি গোলকিপার জনি প্লাসিডকে একা পেয়ে তার দুই পায়ের ভেতর দিয়ে দারুণ ফিনিশিংয়ে গোল করেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। বাঁ প্রান্ত দিয়ে বল নিয়ে অনেকখানি এগিয়ে গিয়েছিলেন ভিনি। প্রথমার্ধে ৩ গোলের লিড নিয়ে বিরতিতে গেছে কার্লো আনচেলত্তির দল।
চোটের কারণে ৪০ মিনিটে মাঠ ছেড়েছেন রাফিনিয়া। তার বদলি হিসেবে মাঠে নামেন বোর্নমাউথে খেলা ফরোয়ার্ড রায়ান।
ম্যাচের ৩৬ মিনিটে দ্বিতীয় গোলের দেখাে পেলো ব্রাজিল। মাঝমাঠে বল বলের দখল নিয়েছিলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। তিনি খুঁজে নিলেন বক্সে এগোতে থাকা মাতেউস কুনিয়াকে। বক্সে এগিয়ে গিয়ে বাম পায়ের দারুণ ফিনিশিংয়ে বল হাইতির জালে জড়ান কুনিয়া।

অবশেষে ২৩ মিনিটে গোলের দেখা পায় ব্রাজিল। গোলদাতা মাতেউস কুনিয়া।
ডান প্রান্ত থেকে বল নিয়ে হাইতির বক্সে ঢুকে শট নেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। হাইতি গোলকিপার জনি প্লাসিড শটটি ঠেকালেও ফিরতি বলে কুনিয়ার শট জালে জড়ায়।
ম্যাচের ১১ মিনিটেই বল হাইতির জালে পাঠিয়েছিলেন ব্রাজিলের ফরোয়ার্ড রাফিনিয়া। তবে অফসাইডের পতাকা তোলেন লাইন্সম্যান। তাতে বাতিল হয় গোল। ম্যাচের শুরু থেকেই দারুণ খেলছেন রাফিনিয়া।
বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচটি ব্রাজিল খেলেছিল হলুদ জার্সি পরেই। তবে আজ হাইতির বিপক্ষে তারা মাঠে নেমেছে নীল জার্সি অর্থাৎ অ্যাওয়ে জার্সিটি পরে।
হাইতির বিপক্ষে ম্যাচে ব্রাজিলের একাদশে দুটি পরিবর্তন করা হয়েছে। মরক্কোর বিপক্ষে খারাপ পারফরম্যান্স করা ইবানেজ ও থিয়াগো নেই একাদশে।
দেখে নেওয়া যাক একাদশ: অ্যালিসন বেকার (গোলরক্ষক), দানিলো, মার্কিনিয়োস, গ্যাব্রিয়েল মাঘালায়েস, ডগলাস সান্তোস, ক্যাসেমিরো, ব্রুনো গুইমারেস ও লুকাস পাকেতা, রাফিনিয়া, মাতেউস কুনিয়া ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।