শিরোনাম

মার্কিন অবরোধ ব্যর্থ করে তেল উৎপাদনে বাজিমাত ইরানের

সিটিজেন ডেস্ক
মার্কিন অবরোধ ব্যর্থ করে তেল উৎপাদনে বাজিমাত ইরানের
দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের খুজেস্তান প্রদেশের আজাদেগান তেলক্ষেত্র। ছবি: সংগৃহীত

৪০ দিনব্যাপী মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসন সত্ত্বেও ইরানের জ্বালানি তেল উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম বিন্দুমাত্র ব্যাহত হয়নি বলে দাবি করেছে তেহরান। শুক্রবার (৮ মে) এক বিবৃতিতে ইরানের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী মহসেন পাকনেজাদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাতের সময় কিছু গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালানো হলেও তেল খাতের কর্মীদের নিরলস প্রচেষ্টায় সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা সম্ভব হয়েছে। মন্ত্রী আরও জানান, হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর পুনর্গঠন কাজ বর্তমানে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সেগুলো পুনরায় পুরোদমে চালু করা হবে।

এদিকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কঠোর অবস্থান বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি মার্কিন প্রশাসন লঙ্ঘন করেছে এমন অভিযোগ তুলে ইরান ওই এলাকায় শত্রুপক্ষের জাহাজের চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। তবে এ কঠোর অবরোধের মধ্যেই মার্কিন নৌবাহিনীর নজরদারি এড়িয়ে তিনটি ইরানি ট্যাংকার সফলভাবে দেশে ফিরেছে। ট্যাংকার ট্র্যাকিং সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহনে সক্ষম এ বিশাল জাহাজগুলো পাকিস্তানের জলসীমা ব্যবহার করে ইরানি বন্দরে পৌঁছেছে, যা মার্কিন অবরোধকে কার্যত ব্যর্থ করে দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে কেবল সামরিক কৌশল নয়, বরং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির নতুন পথ খুঁজছে তেহরান। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা ও বৈদেশিক নীতি বিষয়ক সংসদীয় কমিশনের সদস্য আলি খেজরিয়ান জানিয়েছেন, মন্ত্রিসভার সাম্প্রতিক বৈঠকে এই প্রণালির ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা থেকে রাজস্ব আয়ের একটি পরিকল্পনা পেশ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রানজিট ফি, সামুদ্রিক পরিষেবা এবং উন্নত ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মাধ্যমে ইরান গুরুত্বপূর্ণ এ জলপথ থেকে বড় অংকের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সম্ভাবনা দেখছে। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের বন্দরে মার্কিন অবরোধ বজায় থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত শত্রুপক্ষের জন্য এ জলপথ রুদ্ধ থাকবে। আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনকারী এ অবরোধকে জলদস্যুতা হিসেবেই দেখছে তেহরান।

সূত্র: প্রেস টিভি

/এমএকে/