শিরোনাম

উজানের ঢলে বাড়ছে পদ্মার পানি, ৩ জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

রাজশাহী সংবাদদাতা
রাজশাহী সংবাদদাতা
উজানের ঢলে বাড়ছে পদ্মার পানি, ৩ জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত
(বাঁ থেকে) বসতবাড়িতে ঢুকে পড়েছে পানি এবং উজানের ঢলে পদ্মা নদীর পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

পদ্মা নদীর পানি উজানের ঢলে প্রতিনিয়তই বেড়ে চলছে। এতে ইতোমধ্যে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও কুষ্টিয়ার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। কোথাও কোথাও পানি ঢুকে পড়েছে বসতবাড়িতে। পানিতে তলিয়ে গেছে ফসলের মাঠ। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ।

পানিবন্দি এসব এলাকায় দেখা দিয়েছে ব্যাপক খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট। কিছু এলাকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ কার্যক্রম শুরু হলেও মানবেতর জীবন-যাপন করছেন বন্যাদুর্গত মানুষ।

অন্যদিকে, মুন্সিগঞ্জের কয়েকটি এলাকায় পদ্মার তীব্র স্রোতে দেখা দিয়েছে নদীভাঙন। এতে নদীতীরবর্তী মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, টানা কয়েকদিন ধরে ভারত ও নেপালের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে উজান থেকে নেমে আসা ঢলে পদ্মা অববাহিকায় পানি দ্রুত বেড়ে চলছে। এরই মধ্যে রাজশাহীর দক্ষিণের চর খিদিরপুর, খানপুরসহ বেশ কয়েকটি নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নদীভাঙনের আতঙ্ক নিয়ে তাদের দিন কাটতে হচ্ছে। নদীগর্ভে বসতভিটা চলে গেলে তাদের কী হবে– তা নিয়েও দুশ্চিন্তা।

তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, জলমগ্ন পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্গত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি, খাবার ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে।

রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান বলেন, গত দুই-তিন দিনে পানি বৃদ্ধির পরিমাণ বেশি। আগামী এক-দুই দিন পানি আরও বাড়তে পারে। তার দাবি, আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার সম্ভাবনা নেই।

এদিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার চরাঞ্চলের অন্তত আড়াই হাজার পরিবার গত তিন দিন ধরে পানিবন্দি রয়েছে। এসব এলাকায় রান্না করা খাবারের সংকট দেখা দিয়েছে। তলিয়ে গেছে প্রায় ৫৭ হেক্টর ফসলি জমি। পানির কারণে কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও বন্ধ রাখা হয়েছে।

এদিকে, গত তিন দিন ধরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার চরাঞ্চলের অন্তত আড়াই হাজার পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। এসব এলাকায় রান্না করা খাবারের সংকট দেখা দিয়েছে। তলিয়ে গেছে প্রায় ৫৭ হেক্টর ফসলি জমি। পানির কারণে কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও বন্ধ রাখা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, অনেক বাড়িতে যাতায়াতের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। গবাদিপশু নিয়ে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিতে হচ্ছে তাদের। কোথাও কোথাও কোমরসমান পানি জমে থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

অন্যদিকে, উজানের ঢলে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের বেশ কিছু বসতবাড়ি ও ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। পানি বাড়তে থাকায় নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ঘর ছাড়ছেন অনেকে।

এ ছাড়া, মুন্সিগঞ্জেও বেড়েছে পদ্মার পানি। নদীর তীব্র স্রোতে টঙ্গিবাড়ী উপজেলার হাসাইল, মুন্সিগঞ্জ সদরের শিলাইসহ নদীতীরবর্তী কয়েকটি এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন এসব এলাকার বাসিন্দারা।

/এফআর/