শিরোনাম

যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতা স্মারকে কী আছে

সিটিজেন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতা স্মারকে কী আছে
ছবি: সংগৃহীত

ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র বানাতে দিতে চায় না যুক্তরাষ্ট্র। এ বিষয়ে আলোচনার বিস্তারিত একটি কাঠামো তৈরি করতে এবং যুদ্ধ বন্ধে ইরানের সঙ্গে এক পৃষ্ঠার সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে বলে মনে করছে ওয়াশিংটন। দুজন মার্কিন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অবগত আরও দুটি সূত্র মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওসকে এ তথ্য জানিয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে জবাব দিতে ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার সময় দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সূত্রগুলো বলছে, যুদ্ধ শুরুর পর দুই পক্ষ এবারই চুক্তির সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো কিছুই চূড়ান্ত হয়নি।

কী আছে সমঝোতা স্মারকে?

এক্সিওসের প্রতিবেদন বলা হয়েছে, সমঝোতার খসড়া অনুযায়ী ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত রাখার প্রতিশ্রুতি দেবে। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে। পাশাপাশি দেশটিতে আটকে থাকা কয়েক শ’ কোটি ডলার অর্থ ছাড় দেবে। এছাড়া উভয় পক্ষই হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর থেকে সব বিধিনিষেধ তুলে নেবে।

সমঝোতার খসড়া অনুযায়ী, এই অঞ্চলে যুদ্ধের অবসান ঘোষণা করা হবে। এরপর শুরু হবে ৩০ দিনের নিবিড় আলোচনা। দুটি সূত্রের দেওয়া তথ্যমতে, এই আলোচনা ইসলামাবাদ অথবা জেনেভায় হতে পারে।

৩০ দিনের ওই আলোচনার মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে ইরান তাদের বিধিনিষেধ তুলে নেবে। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ পর্যায়ক্রমে তুলে নেওয়া হবে। তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় অবরোধ আরোপ করতে পারবে, অথবা সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারবে।

এছাড়াও সমঝোতা স্মারকে বলা হয়েছে, ইরান অঙ্গীকার করবে তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। এমনকি এ সংক্রান্ত কোনো কর্মকাণ্ডেও জড়াবে না। ইরান যেন কোনো ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা পরিচালনা না করে, এমন একটি ধারা নিয়েও দুই পক্ষ আলোচনা করছে বলে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা।

সমঝোতার আওতায় ইরান তাদের কাছে থাকা উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশ থেকে সরিয়ে নিতে রাজি হতে পারে বলে জানিয়েছে ওই দুই সূত্র। এটি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল। যদিও তেহরান এই শর্ত এতদিন মানতে চায়নি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এ সমঝোতা স্মারকের অনেক শর্তই চূড়ান্ত চুক্তির ওপর নির্ভর করছে। যার ফলে আবারও যুদ্ধ শুরু বা দীর্ঘমেয়াদি অনিশ্চয়তা তৈরির আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সম্মুখযুদ্ধ থামলেও শেষ পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সমাধান না-ও হতে পারে।

সূত্র: এক্সিওস

/জেএইচ/