শিরোনাম

এক্সপ্লেইনার

ইরান যুদ্ধের পর বদলে যেতে পারে উপসাগরীয় জোটের সমীকরণ

সিটিজেন ডেস্ক
ইরান যুদ্ধের পর বদলে যেতে পারে উপসাগরীয় জোটের সমীকরণ
উপসাগরীয় দেশগুলোর রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাত ভবিষ্যতে উপসাগরীয় অঞ্চলের কূটনৈতিক ও সামরিক জোটগুলোর কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আরব পার্সপেক্টিভস ইনস্টিটিউটের পরিচালক জেইদোন আলকিনানির মতে, এই সংঘাতের প্রভাব শুধু অর্থনীতিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং তা দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক সম্পর্ক ও আঞ্চলিক ভারসাম্যেও গভীর ছাপ ফেলবে।

আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) সদস্য দেশগুলো সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের সঙ্গে তুলনামূলকভাবে উন্নত সম্পর্ক বজায় রাখছিল। যদিও অতীতে তাদের মধ্যে নানা মতবিরোধ ছিল, তবুও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে সম্পর্কের কিছু ইতিবাচক অগ্রগতি লক্ষ্য করা গিয়েছিল।

তবে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে সেই অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আলকিনানির ভাষায়, ইরান এই অঞ্চলের কিছু দেশকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাববলয়ের অংশ বা মার্কিন স্বার্থ রক্ষার উপকরণ হিসেবে দেখতে পারে, যা পারস্পরিক বিশ্বাসে নতুন করে ফাটল সৃষ্টি করতে পারে।

তিনি আরও বিশ্লেষণ করেন, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ উপসাগরীয় অঞ্চলসহ মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার বহু দেশকে তাদের বিদ্যমান জোট ও কূটনৈতিক অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করবে। অনেক রাষ্ট্র হয় নতুন করে জোট গঠন করবে, নয়তো বিদ্যমান আন্তর্জাতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার পথে হাঁটবে।

একই সঙ্গে, ভবিষ্যতে এ ধরনের সংঘাত যেন তাদের অর্থনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি হয়ে না দাঁড়ায়, সে লক্ষ্যে দেশগুলো সামরিক সক্ষমতা বাড়াতেও জোর দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ফলে, এই যুদ্ধ শুধু তাৎক্ষণিক সংকট নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য পুনর্গঠনের পথও তৈরি করতে পারে।

সূত্র: আল জাজিরা

/এমআর/