শিরোনাম

ইরানে হামলার পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদী নৌ-অবরোধের প্রস্তুতি ট্রাম্পের

সিটিজেন ডেস্ক
ইরানে হামলার পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদী নৌ-অবরোধের প্রস্তুতি ট্রাম্পের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক হামলার পথ থেকে সরে এসে দেশটির অর্থনীতি পঙ্গু করতে এক দীর্ঘমেয়াদী নৌ অবরোধ আরোপের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প ইতোমধ্যে তার প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এ অবরোধ বাস্তবায়নের প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। এই কৌশলের মূল উদ্দেশ্য হলো ইরানি বন্দরগুলোতে বাণিজ্যিক ও পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে দেশটির তেল রপ্তানি এবং সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর চরম চাপ প্রয়োগ করে তেহরানকে পুনরায় আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য করা।

হোয়াইট হাউস মনে করছে, সরাসরি সামরিক সংঘাতের তুলনায় এ অর্থনৈতিক যুদ্ধ কৌশল অনেক কম ঝুঁকিপূর্ণ এবং এটি দীর্ঘ মেয়াদে ইরানের জ্বালানি খাতের মেরুদণ্ড ভেঙে দিতে সক্ষম হবে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি অন্তত ২০ বছরের জন্য বন্ধ রাখার যে কঠোর দাবি জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন তা থেকে বিন্দুমাত্র ছাড় দিতে রাজি নয়। কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় বড় কোনো ছাড় না পাওয়া পর্যন্ত এ নৌ অবরোধ বজায় রাখার সিদ্ধান্তে তারা অটল রয়েছেন। এ অনমনীয় অবস্থান প্রমাণ করে ওয়াশিংটন তেহরানের সাথে কোনো তাড়াহুড়ো করে চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী নয়, বরং পূর্ণাঙ্গ নিয়ন্ত্রণ আরোপই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এই কঠোর শর্ত ও দীর্ঘমেয়াদী অবরোধের পরিকল্পনার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ ধারণ করেছে। ইরানের কর্মকর্তারা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে জানিয়েছেন, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনার যে প্রস্তাব তারা দিয়েছিলেন, তার বিপরীতে এখন একটি সংশোধিত প্রস্তাব জমা দিতে তাদের উচ্চপর্যায়ের নেতৃত্বের সাথে আরও সময় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা প্রয়োজন।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ট্রাম্পের এ কৌশল মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতিতেও গভীর প্রভাব ফেলবে। হরমুজ প্রণালি ও সংলগ্ন সমুদ্রপথ দিয়ে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল পরিবাহিত হওয়ায় এ অবরোধ দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে চরম অস্থিরতা দেখা দেবে। এখন সামরিক শক্তির বদলে অর্থনৈতিক যুদ্ধের এ চূড়ান্ত কৌশলের বিপরীতে ইরানের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেটাই এই উত্তপ্ত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির গতিপথ নির্ধারণ করবে।

সূত্র: দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল

/এমএকে/