রাজস্ব বাড়াতে করের চাপ, কঠিন বাস্তবতায় নাগরিক জীবন

রাজস্ব বাড়াতে করের চাপ, কঠিন বাস্তবতায় নাগরিক জীবন
নিজস্ব প্রতিবেদক

অর্থনৈতিক চাপ ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির মধ্যেই ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তুত করছে সরকার। রাজস্ব আয় বাড়াতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) নিত্যপণ্য, মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন খাতে কর বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে। এসব প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ দশমিক ০৪ শতাংশে পৌঁছেছে, যা মার্চে ছিল ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাজেট নিয়ে দিনভর বৈঠক করেন। বৈঠকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবসাবান্ধব বাজেট তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, আসন্ন বাজেটে নিত্যপণ্যের স্থানীয় ঋণপত্রের কমিশনের উৎস কর বাড়িয়ে দ্বিগুণ করা হচ্ছে। বিশেষ করে ধান, ধানের কুড়া, চাল, গম, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, মটরশুঁটি, ছোলা, মসুর ডাল, আদা, হলুদ, শুকনা মরিচ, ডাল, ভুট্টা, আটা, মোটা আটা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল, কালো গোলমরিচ, দারুচিনি, বাদাম, লবঙ্গ, খেজুর, ক্যাসিয়া পাতা, কম্পিউটার ও কম্পিউটারের যন্ত্রাংশ এবং সব ধরনের ফল ক্রয়ের জন্য স্থানীয় ঋণপত্রের কমিশনের ওপর উৎস কর ০ দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১ শতাংশ করা হচ্ছে।
দেশের নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণি বাহন হিসেবে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল ব্যবহার করে। এসব বাহন ব্যবহারে আয়কর দিতে হয় না। বর্তমানে সিএনজি অটোরিকশা ও প্রাইভেট কার, জিপ, এমনকি বাস-ট্রাক-পিকআপের মতো বাহন থেকে অগ্রিম আয়কর আদায় করে সরকার। আগামী বাজেটে মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা থেকেও কর আদায়ের পরিকল্পনা আছে।
জানা গেছে, ১১০ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেল করমুক্ত। ১১১ থেকে ১২৫ সিসি হলে অগ্রিম আয়কর ২ হাজার টাকা। ১২৬ থেকে ১৬৫ সিসি পর্যন্ত ৫ হাজার টাকা। ১৬৫ সিসির বেশি হলে প্রতি বছর ১০ হাজার টাকা আদায়ের ছক কাটা হয়েছে।
এ ছাড়া সরকার করের আওতায় আনতে চায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকেও। সূত্র জানায়, সিটি করপোরেশন এলাকার মধ্যে হলে ৫ হাজার, পৌরসভায় হলে ২ হাজার ও ইউনিয়নের ক্ষেত্রে প্রতি বছর ১ হাজার টাকা কর দিতে হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ব্যক্তি শ্রেণির করমুক্ত সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। তবে স্ল্যাবে পরিবর্তন আনায় বর্তমানে একজন ব্যক্তির বার্ষিক আয় ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা হলে তাকে কর দিতে হতো ৮ হাজার টাকা। আগামীতে এই করের পরিমাণ হবে ১০ হাজার ৫০০ টাকা।
গরিব-মধ্যবিত্তের মতো ধনীদেরও আগের চেয়ে তুলনামূলক বেশি কর দিতে হবে। বর্তমানে একজন করদাতার নিট পরিসম্পদের মূল্যমান ৪ কোটি টাকা পর্যন্ত সারচার্জ শূন্য। ৪ কোটি টাকা অতিক্রম করলে ১০ শতাংশ এবং ৫০ কোটি টাকা অতিক্রম করলে সারচার্জের পরিমাণ ৩৫ শতাংশ। এ ছাড়া একাধিক গাড়ি থাকলে সিসিভেদে ২৫ হাজার থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা পরিবেশ সারচার্জ নেওয়া হয়। তবে আগামী বাজেটে বাজারমূল্যের ওপর ভিত্তি করে ৪ কোটির বেশি, তবে ১০ কোটির কম সম্পদ থাকলে তাকে সম্পদমূল্যের ০.৫০ শতাংশ ‘সম্পদ কর’ দিতে হবে। ১০ কোটির বেশি তবে ২০ কোটি কম হলে ১ শতাংশ, ২০ কোটির বেশি অথচ ৫০ কোটির কম হলে ১ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং ৫০ কোটির বেশি হলে ২ শতাংশ ‘সম্পদ কর’ নির্ধারণের পরিকল্পনা আছে সরকারের। তবে এই সম্পদ কর কোনোভাবেই করদাতার প্রদেয় করের চেয়ে বেশি হবে না।
রপ্তানি বাড়াতে দীর্ঘদিন ধরেই রপ্তানি প্রণোদনা দিয়ে আসছে সরকার। বিশেষ করে তৈরি পোশাক, চামড়া, পাট, কৃষিপণ্য ও তথ্য-প্রযুক্তি খাতে প্রণোদনার বিপরীতে ১০ শতাংশ উৎস কর কেটে নেওয়া হয়। আগামী বাজেটে ২০ শতাংশ কর নির্ধারণের পথে হাঁটছে সরকার। এতে বিপাকে পড়বেন দেশের রপ্তানিকারকরা।
জানা গেছে, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের সম্ভাব্য আকার হতে পারে প্রায় ৯ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আগামী জুন মাসের প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদে বাজেট ঘোষণা করবেন।
বাড়তি করের বোঝা এড়াতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা
বাজেটে বাড়তি করের বোঝা সাধারণ মানুষের ঘাড়ে না চাপানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ের বৈঠকে তিনি কিছু নির্দেশনা দেন বলে বৈঠক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
বাজেটে সরকারের লক্ষ্য মূল্যস্ফীতি কমানো। তবে নিত্যপণ্যের স্থানীয় ঋণপত্রের কমিশনের উৎস কর ০ দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১ শতাংশ করা হচ্ছে। বৈঠক সূত্র জানায়, দ্বিগুণ হারে কর বাড়লে মূল্যস্ফীতি আরো বেড়ে যেতে পারে– এমন আশঙ্কায় বিষয়টি নিয়ে আরো পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
এ ছাড়া বাজেটে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলে প্রথমবারের মতো অগ্রিম আয়কর বসানোর প্রস্তাবে সায় দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তবে আগের প্রস্তাবিত হারের তুলনায় তা কমানোর নির্দেশনা দিয়েছেন। সূত্র জানায়, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার করহারও কমিয়ে আনতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানি ও উৎপাদনের ক্ষেত্রে কিছুটা সুবিধা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হচ্ছে বাজেটে। একই সঙ্গে মোবাইল ফোন, এয়ারকন্ডিশনার, ফ্রিজ, এলইডি/এনার্জি সেভিং লাইট, ঘর বা অফিসের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য সিসি ক্যামেরা, ব্যাংকের বুথের জন্য এটিএম মেশিনের উপকরণ আমদানিতে শুল্ক-কর আগের তুলনায় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এই প্রস্তাব আরো পর্যালোচনা করে দেখার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
বর্তমানে স্বর্ণের ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ ভ্যাট নির্ধারিত আছে। তবে বৈধ পথে স্বর্ণ আমদানি নিশ্চিত করতে ও সরকারের রাজস্ব আয় বাড়াতে প্রতি ভরিতে ৫ হাজার টাকা ভ্যাট নির্ধারণের সুপারিশ করেছিল এনবিআর। তবে যেকোনো ধরনের অনুষ্ঠানে স্বর্ণ ব্যবহারের রেওয়াজ থাকায় প্রধানমন্ত্রী ভরিপ্রতি ভ্যাটের হার আরো কমিয়ে আনার পরামর্শ দিয়েছেন।
সিগারেটের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবে সায় দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া দেশের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে হার্টের রিং, ডায়ালিসিসের টিউবের পাশাপাশি ঝুট ব্যবসায়ীদের ভ্যাট অব্যাহতির প্রস্তাব ও আবগারি শুল্কের সীমা ৩ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৫ লাখ করার প্রস্তাবে সন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ব্যক্তি শ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা ও করপোরেট করহার নির্ধারণ করে রাখায় এ নিয়ে কোনো বিশদ আলোচনা হয়নি। সম্পদ করের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে।

অর্থনৈতিক চাপ ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির মধ্যেই ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তুত করছে সরকার। রাজস্ব আয় বাড়াতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) নিত্যপণ্য, মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন খাতে কর বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে। এসব প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ দশমিক ০৪ শতাংশে পৌঁছেছে, যা মার্চে ছিল ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাজেট নিয়ে দিনভর বৈঠক করেন। বৈঠকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবসাবান্ধব বাজেট তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, আসন্ন বাজেটে নিত্যপণ্যের স্থানীয় ঋণপত্রের কমিশনের উৎস কর বাড়িয়ে দ্বিগুণ করা হচ্ছে। বিশেষ করে ধান, ধানের কুড়া, চাল, গম, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, মটরশুঁটি, ছোলা, মসুর ডাল, আদা, হলুদ, শুকনা মরিচ, ডাল, ভুট্টা, আটা, মোটা আটা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল, কালো গোলমরিচ, দারুচিনি, বাদাম, লবঙ্গ, খেজুর, ক্যাসিয়া পাতা, কম্পিউটার ও কম্পিউটারের যন্ত্রাংশ এবং সব ধরনের ফল ক্রয়ের জন্য স্থানীয় ঋণপত্রের কমিশনের ওপর উৎস কর ০ দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১ শতাংশ করা হচ্ছে।
দেশের নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণি বাহন হিসেবে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল ব্যবহার করে। এসব বাহন ব্যবহারে আয়কর দিতে হয় না। বর্তমানে সিএনজি অটোরিকশা ও প্রাইভেট কার, জিপ, এমনকি বাস-ট্রাক-পিকআপের মতো বাহন থেকে অগ্রিম আয়কর আদায় করে সরকার। আগামী বাজেটে মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা থেকেও কর আদায়ের পরিকল্পনা আছে।
জানা গেছে, ১১০ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেল করমুক্ত। ১১১ থেকে ১২৫ সিসি হলে অগ্রিম আয়কর ২ হাজার টাকা। ১২৬ থেকে ১৬৫ সিসি পর্যন্ত ৫ হাজার টাকা। ১৬৫ সিসির বেশি হলে প্রতি বছর ১০ হাজার টাকা আদায়ের ছক কাটা হয়েছে।
এ ছাড়া সরকার করের আওতায় আনতে চায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকেও। সূত্র জানায়, সিটি করপোরেশন এলাকার মধ্যে হলে ৫ হাজার, পৌরসভায় হলে ২ হাজার ও ইউনিয়নের ক্ষেত্রে প্রতি বছর ১ হাজার টাকা কর দিতে হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ব্যক্তি শ্রেণির করমুক্ত সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। তবে স্ল্যাবে পরিবর্তন আনায় বর্তমানে একজন ব্যক্তির বার্ষিক আয় ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা হলে তাকে কর দিতে হতো ৮ হাজার টাকা। আগামীতে এই করের পরিমাণ হবে ১০ হাজার ৫০০ টাকা।
গরিব-মধ্যবিত্তের মতো ধনীদেরও আগের চেয়ে তুলনামূলক বেশি কর দিতে হবে। বর্তমানে একজন করদাতার নিট পরিসম্পদের মূল্যমান ৪ কোটি টাকা পর্যন্ত সারচার্জ শূন্য। ৪ কোটি টাকা অতিক্রম করলে ১০ শতাংশ এবং ৫০ কোটি টাকা অতিক্রম করলে সারচার্জের পরিমাণ ৩৫ শতাংশ। এ ছাড়া একাধিক গাড়ি থাকলে সিসিভেদে ২৫ হাজার থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা পরিবেশ সারচার্জ নেওয়া হয়। তবে আগামী বাজেটে বাজারমূল্যের ওপর ভিত্তি করে ৪ কোটির বেশি, তবে ১০ কোটির কম সম্পদ থাকলে তাকে সম্পদমূল্যের ০.৫০ শতাংশ ‘সম্পদ কর’ দিতে হবে। ১০ কোটির বেশি তবে ২০ কোটি কম হলে ১ শতাংশ, ২০ কোটির বেশি অথচ ৫০ কোটির কম হলে ১ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং ৫০ কোটির বেশি হলে ২ শতাংশ ‘সম্পদ কর’ নির্ধারণের পরিকল্পনা আছে সরকারের। তবে এই সম্পদ কর কোনোভাবেই করদাতার প্রদেয় করের চেয়ে বেশি হবে না।
রপ্তানি বাড়াতে দীর্ঘদিন ধরেই রপ্তানি প্রণোদনা দিয়ে আসছে সরকার। বিশেষ করে তৈরি পোশাক, চামড়া, পাট, কৃষিপণ্য ও তথ্য-প্রযুক্তি খাতে প্রণোদনার বিপরীতে ১০ শতাংশ উৎস কর কেটে নেওয়া হয়। আগামী বাজেটে ২০ শতাংশ কর নির্ধারণের পথে হাঁটছে সরকার। এতে বিপাকে পড়বেন দেশের রপ্তানিকারকরা।
জানা গেছে, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের সম্ভাব্য আকার হতে পারে প্রায় ৯ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আগামী জুন মাসের প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদে বাজেট ঘোষণা করবেন।
বাড়তি করের বোঝা এড়াতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা
বাজেটে বাড়তি করের বোঝা সাধারণ মানুষের ঘাড়ে না চাপানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ের বৈঠকে তিনি কিছু নির্দেশনা দেন বলে বৈঠক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
বাজেটে সরকারের লক্ষ্য মূল্যস্ফীতি কমানো। তবে নিত্যপণ্যের স্থানীয় ঋণপত্রের কমিশনের উৎস কর ০ দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১ শতাংশ করা হচ্ছে। বৈঠক সূত্র জানায়, দ্বিগুণ হারে কর বাড়লে মূল্যস্ফীতি আরো বেড়ে যেতে পারে– এমন আশঙ্কায় বিষয়টি নিয়ে আরো পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
এ ছাড়া বাজেটে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলে প্রথমবারের মতো অগ্রিম আয়কর বসানোর প্রস্তাবে সায় দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তবে আগের প্রস্তাবিত হারের তুলনায় তা কমানোর নির্দেশনা দিয়েছেন। সূত্র জানায়, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার করহারও কমিয়ে আনতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানি ও উৎপাদনের ক্ষেত্রে কিছুটা সুবিধা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হচ্ছে বাজেটে। একই সঙ্গে মোবাইল ফোন, এয়ারকন্ডিশনার, ফ্রিজ, এলইডি/এনার্জি সেভিং লাইট, ঘর বা অফিসের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য সিসি ক্যামেরা, ব্যাংকের বুথের জন্য এটিএম মেশিনের উপকরণ আমদানিতে শুল্ক-কর আগের তুলনায় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এই প্রস্তাব আরো পর্যালোচনা করে দেখার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
বর্তমানে স্বর্ণের ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ ভ্যাট নির্ধারিত আছে। তবে বৈধ পথে স্বর্ণ আমদানি নিশ্চিত করতে ও সরকারের রাজস্ব আয় বাড়াতে প্রতি ভরিতে ৫ হাজার টাকা ভ্যাট নির্ধারণের সুপারিশ করেছিল এনবিআর। তবে যেকোনো ধরনের অনুষ্ঠানে স্বর্ণ ব্যবহারের রেওয়াজ থাকায় প্রধানমন্ত্রী ভরিপ্রতি ভ্যাটের হার আরো কমিয়ে আনার পরামর্শ দিয়েছেন।
সিগারেটের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবে সায় দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া দেশের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে হার্টের রিং, ডায়ালিসিসের টিউবের পাশাপাশি ঝুট ব্যবসায়ীদের ভ্যাট অব্যাহতির প্রস্তাব ও আবগারি শুল্কের সীমা ৩ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৫ লাখ করার প্রস্তাবে সন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ব্যক্তি শ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা ও করপোরেট করহার নির্ধারণ করে রাখায় এ নিয়ে কোনো বিশদ আলোচনা হয়নি। সম্পদ করের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে।

রাজস্ব বাড়াতে করের চাপ, কঠিন বাস্তবতায় নাগরিক জীবন
নিজস্ব প্রতিবেদক

অর্থনৈতিক চাপ ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির মধ্যেই ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তুত করছে সরকার। রাজস্ব আয় বাড়াতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) নিত্যপণ্য, মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন খাতে কর বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে। এসব প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ দশমিক ০৪ শতাংশে পৌঁছেছে, যা মার্চে ছিল ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাজেট নিয়ে দিনভর বৈঠক করেন। বৈঠকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবসাবান্ধব বাজেট তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, আসন্ন বাজেটে নিত্যপণ্যের স্থানীয় ঋণপত্রের কমিশনের উৎস কর বাড়িয়ে দ্বিগুণ করা হচ্ছে। বিশেষ করে ধান, ধানের কুড়া, চাল, গম, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, মটরশুঁটি, ছোলা, মসুর ডাল, আদা, হলুদ, শুকনা মরিচ, ডাল, ভুট্টা, আটা, মোটা আটা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল, কালো গোলমরিচ, দারুচিনি, বাদাম, লবঙ্গ, খেজুর, ক্যাসিয়া পাতা, কম্পিউটার ও কম্পিউটারের যন্ত্রাংশ এবং সব ধরনের ফল ক্রয়ের জন্য স্থানীয় ঋণপত্রের কমিশনের ওপর উৎস কর ০ দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১ শতাংশ করা হচ্ছে।
দেশের নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণি বাহন হিসেবে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল ব্যবহার করে। এসব বাহন ব্যবহারে আয়কর দিতে হয় না। বর্তমানে সিএনজি অটোরিকশা ও প্রাইভেট কার, জিপ, এমনকি বাস-ট্রাক-পিকআপের মতো বাহন থেকে অগ্রিম আয়কর আদায় করে সরকার। আগামী বাজেটে মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা থেকেও কর আদায়ের পরিকল্পনা আছে।
জানা গেছে, ১১০ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেল করমুক্ত। ১১১ থেকে ১২৫ সিসি হলে অগ্রিম আয়কর ২ হাজার টাকা। ১২৬ থেকে ১৬৫ সিসি পর্যন্ত ৫ হাজার টাকা। ১৬৫ সিসির বেশি হলে প্রতি বছর ১০ হাজার টাকা আদায়ের ছক কাটা হয়েছে।
এ ছাড়া সরকার করের আওতায় আনতে চায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকেও। সূত্র জানায়, সিটি করপোরেশন এলাকার মধ্যে হলে ৫ হাজার, পৌরসভায় হলে ২ হাজার ও ইউনিয়নের ক্ষেত্রে প্রতি বছর ১ হাজার টাকা কর দিতে হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ব্যক্তি শ্রেণির করমুক্ত সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। তবে স্ল্যাবে পরিবর্তন আনায় বর্তমানে একজন ব্যক্তির বার্ষিক আয় ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা হলে তাকে কর দিতে হতো ৮ হাজার টাকা। আগামীতে এই করের পরিমাণ হবে ১০ হাজার ৫০০ টাকা।
গরিব-মধ্যবিত্তের মতো ধনীদেরও আগের চেয়ে তুলনামূলক বেশি কর দিতে হবে। বর্তমানে একজন করদাতার নিট পরিসম্পদের মূল্যমান ৪ কোটি টাকা পর্যন্ত সারচার্জ শূন্য। ৪ কোটি টাকা অতিক্রম করলে ১০ শতাংশ এবং ৫০ কোটি টাকা অতিক্রম করলে সারচার্জের পরিমাণ ৩৫ শতাংশ। এ ছাড়া একাধিক গাড়ি থাকলে সিসিভেদে ২৫ হাজার থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা পরিবেশ সারচার্জ নেওয়া হয়। তবে আগামী বাজেটে বাজারমূল্যের ওপর ভিত্তি করে ৪ কোটির বেশি, তবে ১০ কোটির কম সম্পদ থাকলে তাকে সম্পদমূল্যের ০.৫০ শতাংশ ‘সম্পদ কর’ দিতে হবে। ১০ কোটির বেশি তবে ২০ কোটি কম হলে ১ শতাংশ, ২০ কোটির বেশি অথচ ৫০ কোটির কম হলে ১ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং ৫০ কোটির বেশি হলে ২ শতাংশ ‘সম্পদ কর’ নির্ধারণের পরিকল্পনা আছে সরকারের। তবে এই সম্পদ কর কোনোভাবেই করদাতার প্রদেয় করের চেয়ে বেশি হবে না।
রপ্তানি বাড়াতে দীর্ঘদিন ধরেই রপ্তানি প্রণোদনা দিয়ে আসছে সরকার। বিশেষ করে তৈরি পোশাক, চামড়া, পাট, কৃষিপণ্য ও তথ্য-প্রযুক্তি খাতে প্রণোদনার বিপরীতে ১০ শতাংশ উৎস কর কেটে নেওয়া হয়। আগামী বাজেটে ২০ শতাংশ কর নির্ধারণের পথে হাঁটছে সরকার। এতে বিপাকে পড়বেন দেশের রপ্তানিকারকরা।
জানা গেছে, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের সম্ভাব্য আকার হতে পারে প্রায় ৯ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আগামী জুন মাসের প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদে বাজেট ঘোষণা করবেন।
বাড়তি করের বোঝা এড়াতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা
বাজেটে বাড়তি করের বোঝা সাধারণ মানুষের ঘাড়ে না চাপানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ের বৈঠকে তিনি কিছু নির্দেশনা দেন বলে বৈঠক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
বাজেটে সরকারের লক্ষ্য মূল্যস্ফীতি কমানো। তবে নিত্যপণ্যের স্থানীয় ঋণপত্রের কমিশনের উৎস কর ০ দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১ শতাংশ করা হচ্ছে। বৈঠক সূত্র জানায়, দ্বিগুণ হারে কর বাড়লে মূল্যস্ফীতি আরো বেড়ে যেতে পারে– এমন আশঙ্কায় বিষয়টি নিয়ে আরো পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
এ ছাড়া বাজেটে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলে প্রথমবারের মতো অগ্রিম আয়কর বসানোর প্রস্তাবে সায় দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তবে আগের প্রস্তাবিত হারের তুলনায় তা কমানোর নির্দেশনা দিয়েছেন। সূত্র জানায়, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার করহারও কমিয়ে আনতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানি ও উৎপাদনের ক্ষেত্রে কিছুটা সুবিধা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হচ্ছে বাজেটে। একই সঙ্গে মোবাইল ফোন, এয়ারকন্ডিশনার, ফ্রিজ, এলইডি/এনার্জি সেভিং লাইট, ঘর বা অফিসের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য সিসি ক্যামেরা, ব্যাংকের বুথের জন্য এটিএম মেশিনের উপকরণ আমদানিতে শুল্ক-কর আগের তুলনায় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এই প্রস্তাব আরো পর্যালোচনা করে দেখার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
বর্তমানে স্বর্ণের ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ ভ্যাট নির্ধারিত আছে। তবে বৈধ পথে স্বর্ণ আমদানি নিশ্চিত করতে ও সরকারের রাজস্ব আয় বাড়াতে প্রতি ভরিতে ৫ হাজার টাকা ভ্যাট নির্ধারণের সুপারিশ করেছিল এনবিআর। তবে যেকোনো ধরনের অনুষ্ঠানে স্বর্ণ ব্যবহারের রেওয়াজ থাকায় প্রধানমন্ত্রী ভরিপ্রতি ভ্যাটের হার আরো কমিয়ে আনার পরামর্শ দিয়েছেন।
সিগারেটের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবে সায় দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া দেশের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে হার্টের রিং, ডায়ালিসিসের টিউবের পাশাপাশি ঝুট ব্যবসায়ীদের ভ্যাট অব্যাহতির প্রস্তাব ও আবগারি শুল্কের সীমা ৩ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৫ লাখ করার প্রস্তাবে সন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ব্যক্তি শ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা ও করপোরেট করহার নির্ধারণ করে রাখায় এ নিয়ে কোনো বিশদ আলোচনা হয়নি। সম্পদ করের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে।

মোটরসাইকেল ও অটোরিকশায় কর আরোপের প্রস্তাব, বছরে কত
৬ লাখ কোটি টাকা রাজস্বের লক্ষ্য এনবিআরের


