শিরোনাম

মামলার জট কমাতে বহুমুখী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার: আইনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
মামলার জট কমাতে বহুমুখী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার: আইনমন্ত্রী
সংসদে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জমান। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

মামলার জট কমানো এবং বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত ও কার্যকর করতে স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদিসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল)সংসদে নোয়াখালী-১ আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য এ. এম. মাহবুব উদ্দিনের টেবিলে উত্থাপিত তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

আইনমন্ত্রী বলেন, বিচারব্যবস্থাকে আধুনিক ও গতিশীল করতে চলতি অধিবেশনেই গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রক্রিয়াগত আইনের সংশোধন পাস করা হয়েছে। দেওয়ানি কার্যবিধি (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এ এসএমএস ও ভয়েস কলের মাধ্যমে সমন জারি, হলফনামার মাধ্যমে লিখিত জবাব দাখিল, সরাসরি জেরা গ্রহণ এবং একই মামলার মধ্যেই ডিক্রি বাস্তবায়নের আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে। ফলে, আলাদা এক্সিকিউশন মামলা করার প্রয়োজন থাকবে না।

তিনি বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধি (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এ অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব কমাতে বিভিন্ন প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে। নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে পলাতক আসামির বিরুদ্ধে প্রচলিত কিছু ধাপ (প্রোক্লেমেশন ও অ্যাটাচমেন্ট) এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে সমন জারির বিধান রাখা হয়েছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি আইন ২০২০ অনুযায়ী এখন তদন্ত কর্মকর্তা, চিকিৎসক এবং জবানবন্দি গ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেটদের সাক্ষ্য অনলাইনে গ্রহণ করা হচ্ছে। যার ফলে সাক্ষীদের শারীরিক উপস্থিতি ছাড়াই দ্রুত বিচার সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ৮৭১টি আদালত ও ২৩২টি বিচারক পদ সৃষ্টি করা হয়েছে এবং আরোও ৩০৪টি বিচারক পদ সৃষ্টির প্রক্রিয়া চলছে। একইসঙ্গে ১৫০ জন সহকারী জজ এবং ১ হাজার ২০০ জনের বেশি বিচারিক কর্মচারী নিয়োগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আইনগত সহায়তা সেবা (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর মাধ্যমে কিছু ক্ষেত্রে মামলা দায়েরের আগে বাধ্যতামূলকভাবে মধ্যস্থতার (মেডিয়েশন) ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। যা পরীক্ষামূলক জেলাগুলোতে মামলার সংখ্যা কমাতে সহায়ক হয়েছে। এদিকে, বিনামূল্যে আইনগত সহায়তা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে হটলাইন (১৬৬৯৯), অনলাইন সেবা এবং প্রবাসীদের জন্য বিশেষ সহায়তা চালু করা হয়েছে।

তিনি বলেন, অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ২৩টি জেলায় প্রধান বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে এবং অন্যান্য জেলাতেও সুবিধা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ১৬টি জেলায় ই-বেইল বন্ড চালু হয়েছে। ঢাকা ও চট্টগ্রামে ই-ফ্যামিলি কোর্ট কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং অনলাইনে কজলিস্ট প্রকাশের ব্যবস্থা চালু হয়েছে। যা স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়িয়েছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন এবং পূর্ণাঙ্গ ‘ই-জুডিশিয়ারি’ ব্যবস্থা চালুর কাজ চলমান রয়েছে। এসব সমন্বিত উদ্যোগের ফলে ধীরে ধীরে মামলার জট কমবে এবং নাগরিকরা দ্রুত, স্বচ্ছ ও ব্যয় সাশ্রয়ী বিচারসেবা পাবেন।

/এসবি/