বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভর্তুকি ছাড়ে অর্থ বিভাগের কঠোর শর্ত
সিটিজেন ডেস্ক

বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভর্তুকি ছাড়ে অর্থ বিভাগের কঠোর শর্ত
সিটিজেন ডেস্ক
প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৯: ০৭

ছবি: সিটিজেন গ্রাফিক্স
দেশের বেসরকারি ও ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বিপুল বকেয়া মেটাতে ২ হাজার ৬৭ কোটি টাকার ভর্তুকি ছাড় করেছে অর্থ বিভাগ। তবে স্বস্তির বদলে এ ভর্তুকি বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) জন্য নতুন চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, ছাড়কৃত এ অর্থ দিয়ে ভারত বা নেপাল থেকে আমদানিকৃত বিদ্যুতের বিল কোনোভাবেই পরিশোধ করা যাবে না বলে কঠিন শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ক্যাপাসিটি চার্জ কমানোসহ একগুচ্ছ আর্থিক বিধিনিষেধ আরোপ করায়, বিশেষ করে ভারতের আদানি গ্রুপসহ অন্যান্য বিদেশি সরবরাহকারীদের বকেয়া মেটানো নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও চাপের মুখে পড়েছে পিডিবি।
পিডিবির জন্য বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে আমদানিকৃত বিদ্যুতের বকেয়া বিল। বর্তমানে নেপাল থেকে ৪০ মেগাওয়াট এবং ভারতের ত্রিপুরা থেকে ১৬০ মেগাওয়াট, ভেড়ামারা থেকে ১ হাজার মেগাওয়াট ও আদানি পাওয়ার থেকে ১ হাজার ৪৩৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করছে বাংলাদেশ। কিন্তু অর্থ বিভাগের চিঠিতে বলা হয়েছে, এবারের ভর্তুকিতে আমদানির বিষয়টি বিবেচনা করা হয়নি। পিডিবির তথ্যমতে, আমদানিকৃত বিদ্যুতের বকেয়া বিলের পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকায় ঠেকেছে, যার সিংহভাগই পাবে আদানি গ্রুপ। বকেয়া আদায়ে গত ১৯ এপ্রিল পিডিবিকে কড়া চিঠি দিয়ে আগামী জুনের মধ্যে ৮৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার পরিশোধের তাগিদ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। নির্ধারিত সময়ে বিল না দিলে বিলম্ব ফি বা লেট ফি যুক্ত হবে, যা পিডিবির আর্থিক বোঝাকে আরও ভারী করবে।
বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জ্বালানি খরচ ক্রমাগত বাড়ায় পিডিবি এমনিতেই বড় ধরনের লোকসানে রয়েছে এবং পরিচালনার জন্য সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভরশীল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অর্থ বিভাগ ২৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি ছাড় করেছে। বর্তমান অর্থবছরে ৩৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও পিডিবির প্রকৃত চাহিদা এর চেয়ে অনেক বেশি। এর মধ্যেই নতুন যুক্ত হওয়া দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বিআর পাওয়ারজেনের শ্রীপুর ১৬০ মেগাওয়াট এবং আরপিসিএল-নরিনকোর পটুয়াখালী ১৩২০ মেগাওয়াট কেন্দ্রের ভর্তুকি আটকে দেওয়া হয়েছে। সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত কমিটির অনুমোদন না থাকা এবং বিদ্যুৎ বিভাগের স্পষ্টীকরণের অভাবে এ অর্থ ছাড় করেনি অর্থ বিভাগ। অথচ কেন্দ্র দুটি থেকে বিদ্যুৎ কেনা শুরু হওয়ায় বড় অঙ্কের বিল জমা পড়েছে, যা পরিশোধ না করলে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা করছে পিডিবি।
ভর্তুকি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে এবার বেশ কিছু প্রাতিষ্ঠানিক শর্তও দেওয়া হয়েছে। অর্থ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, মে মাস থেকে পিডিবিকে তাদের কেন্দ্রভিত্তিক মিশ্র জ্বালানি ব্যবহারের তুলনামূলক বিবরণী, কম দামে পাইকারি বিদ্যুৎ বিক্রির ফলে ক্ষতির পরিমাণ এবং আইপিপি, রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল কেন্দ্রগুলোর মাসভিত্তিক ক্ষতির আলাদা হিসাব জমা দিতে হবে। এছাড়া ক্যাপাসিটি চার্জ যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনা এবং পিডিবি ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিটগুলোতে ইআরপি (রিয়েল টাইম ডেটা) সফটওয়্যার বাস্তবায়নেরও কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অর্থ বিভাগের এমন কড়াকড়ি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পিডিবির এক কর্মকর্তার মতে, বিশ্ববাজারে জ্বালানির অস্থিরতা ও দেশীয় গ্যাস সংকটের কারণে উচ্চমূল্যে এলএনজি ও ফার্নেস অয়েল ব্যবহার করতে হচ্ছে। এই কঠিন সময়ে অর্থ বিভাগের নতুন শর্তগুলো বিদ্যুৎ উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে অর্থ বিভাগের বাজেট-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব মোহাম্মদ ফারুক-উজ-জামান এ পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তিনি জানান, পিডিবিকে আর্থিকভাবে আরও সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ করতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকার জ্বালানি খাতে সহায়তা অব্যাহত রাখলেও তা আর্থিক বিধিনিষেধ ও নিয়মের মধ্যেই হতে হবে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ইজাজ হোসেনও অর্থ বিভাগের এ উদ্যোগের সঙ্গে একমত পোষণ করে জানিয়েছেন, ভর্তুকির যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। এক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে (বিইআরসি) আরও নিবিড়ভাবে কাজ করার পরামর্শ দেন তিনি। তার মতে, শর্তের কারণে সাময়িক লোডশেডিং বা উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটলেও সামগ্রিক সংকট মোকাবিলা এবং বিদ্যুৎ খাতে দীর্ঘমেয়াদি শৃঙ্খলা ফেরাতে এই ধরনের কড়াকড়ি এখন অপরিহার্য।

দেশের বেসরকারি ও ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বিপুল বকেয়া মেটাতে ২ হাজার ৬৭ কোটি টাকার ভর্তুকি ছাড় করেছে অর্থ বিভাগ। তবে স্বস্তির বদলে এ ভর্তুকি বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) জন্য নতুন চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, ছাড়কৃত এ অর্থ দিয়ে ভারত বা নেপাল থেকে আমদানিকৃত বিদ্যুতের বিল কোনোভাবেই পরিশোধ করা যাবে না বলে কঠিন শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ক্যাপাসিটি চার্জ কমানোসহ একগুচ্ছ আর্থিক বিধিনিষেধ আরোপ করায়, বিশেষ করে ভারতের আদানি গ্রুপসহ অন্যান্য বিদেশি সরবরাহকারীদের বকেয়া মেটানো নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও চাপের মুখে পড়েছে পিডিবি।
পিডিবির জন্য বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে আমদানিকৃত বিদ্যুতের বকেয়া বিল। বর্তমানে নেপাল থেকে ৪০ মেগাওয়াট এবং ভারতের ত্রিপুরা থেকে ১৬০ মেগাওয়াট, ভেড়ামারা থেকে ১ হাজার মেগাওয়াট ও আদানি পাওয়ার থেকে ১ হাজার ৪৩৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করছে বাংলাদেশ। কিন্তু অর্থ বিভাগের চিঠিতে বলা হয়েছে, এবারের ভর্তুকিতে আমদানির বিষয়টি বিবেচনা করা হয়নি। পিডিবির তথ্যমতে, আমদানিকৃত বিদ্যুতের বকেয়া বিলের পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকায় ঠেকেছে, যার সিংহভাগই পাবে আদানি গ্রুপ। বকেয়া আদায়ে গত ১৯ এপ্রিল পিডিবিকে কড়া চিঠি দিয়ে আগামী জুনের মধ্যে ৮৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার পরিশোধের তাগিদ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। নির্ধারিত সময়ে বিল না দিলে বিলম্ব ফি বা লেট ফি যুক্ত হবে, যা পিডিবির আর্থিক বোঝাকে আরও ভারী করবে।
বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জ্বালানি খরচ ক্রমাগত বাড়ায় পিডিবি এমনিতেই বড় ধরনের লোকসানে রয়েছে এবং পরিচালনার জন্য সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভরশীল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অর্থ বিভাগ ২৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি ছাড় করেছে। বর্তমান অর্থবছরে ৩৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও পিডিবির প্রকৃত চাহিদা এর চেয়ে অনেক বেশি। এর মধ্যেই নতুন যুক্ত হওয়া দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বিআর পাওয়ারজেনের শ্রীপুর ১৬০ মেগাওয়াট এবং আরপিসিএল-নরিনকোর পটুয়াখালী ১৩২০ মেগাওয়াট কেন্দ্রের ভর্তুকি আটকে দেওয়া হয়েছে। সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত কমিটির অনুমোদন না থাকা এবং বিদ্যুৎ বিভাগের স্পষ্টীকরণের অভাবে এ অর্থ ছাড় করেনি অর্থ বিভাগ। অথচ কেন্দ্র দুটি থেকে বিদ্যুৎ কেনা শুরু হওয়ায় বড় অঙ্কের বিল জমা পড়েছে, যা পরিশোধ না করলে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা করছে পিডিবি।
ভর্তুকি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে এবার বেশ কিছু প্রাতিষ্ঠানিক শর্তও দেওয়া হয়েছে। অর্থ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, মে মাস থেকে পিডিবিকে তাদের কেন্দ্রভিত্তিক মিশ্র জ্বালানি ব্যবহারের তুলনামূলক বিবরণী, কম দামে পাইকারি বিদ্যুৎ বিক্রির ফলে ক্ষতির পরিমাণ এবং আইপিপি, রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল কেন্দ্রগুলোর মাসভিত্তিক ক্ষতির আলাদা হিসাব জমা দিতে হবে। এছাড়া ক্যাপাসিটি চার্জ যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনা এবং পিডিবি ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিটগুলোতে ইআরপি (রিয়েল টাইম ডেটা) সফটওয়্যার বাস্তবায়নেরও কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অর্থ বিভাগের এমন কড়াকড়ি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পিডিবির এক কর্মকর্তার মতে, বিশ্ববাজারে জ্বালানির অস্থিরতা ও দেশীয় গ্যাস সংকটের কারণে উচ্চমূল্যে এলএনজি ও ফার্নেস অয়েল ব্যবহার করতে হচ্ছে। এই কঠিন সময়ে অর্থ বিভাগের নতুন শর্তগুলো বিদ্যুৎ উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে অর্থ বিভাগের বাজেট-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব মোহাম্মদ ফারুক-উজ-জামান এ পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তিনি জানান, পিডিবিকে আর্থিকভাবে আরও সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ করতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকার জ্বালানি খাতে সহায়তা অব্যাহত রাখলেও তা আর্থিক বিধিনিষেধ ও নিয়মের মধ্যেই হতে হবে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ইজাজ হোসেনও অর্থ বিভাগের এ উদ্যোগের সঙ্গে একমত পোষণ করে জানিয়েছেন, ভর্তুকির যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। এক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে (বিইআরসি) আরও নিবিড়ভাবে কাজ করার পরামর্শ দেন তিনি। তার মতে, শর্তের কারণে সাময়িক লোডশেডিং বা উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটলেও সামগ্রিক সংকট মোকাবিলা এবং বিদ্যুৎ খাতে দীর্ঘমেয়াদি শৃঙ্খলা ফেরাতে এই ধরনের কড়াকড়ি এখন অপরিহার্য।

বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভর্তুকি ছাড়ে অর্থ বিভাগের কঠোর শর্ত
সিটিজেন ডেস্ক
প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৯: ০৭

ছবি: সিটিজেন গ্রাফিক্স
দেশের বেসরকারি ও ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বিপুল বকেয়া মেটাতে ২ হাজার ৬৭ কোটি টাকার ভর্তুকি ছাড় করেছে অর্থ বিভাগ। তবে স্বস্তির বদলে এ ভর্তুকি বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) জন্য নতুন চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, ছাড়কৃত এ অর্থ দিয়ে ভারত বা নেপাল থেকে আমদানিকৃত বিদ্যুতের বিল কোনোভাবেই পরিশোধ করা যাবে না বলে কঠিন শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ক্যাপাসিটি চার্জ কমানোসহ একগুচ্ছ আর্থিক বিধিনিষেধ আরোপ করায়, বিশেষ করে ভারতের আদানি গ্রুপসহ অন্যান্য বিদেশি সরবরাহকারীদের বকেয়া মেটানো নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও চাপের মুখে পড়েছে পিডিবি।
পিডিবির জন্য বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে আমদানিকৃত বিদ্যুতের বকেয়া বিল। বর্তমানে নেপাল থেকে ৪০ মেগাওয়াট এবং ভারতের ত্রিপুরা থেকে ১৬০ মেগাওয়াট, ভেড়ামারা থেকে ১ হাজার মেগাওয়াট ও আদানি পাওয়ার থেকে ১ হাজার ৪৩৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করছে বাংলাদেশ। কিন্তু অর্থ বিভাগের চিঠিতে বলা হয়েছে, এবারের ভর্তুকিতে আমদানির বিষয়টি বিবেচনা করা হয়নি। পিডিবির তথ্যমতে, আমদানিকৃত বিদ্যুতের বকেয়া বিলের পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকায় ঠেকেছে, যার সিংহভাগই পাবে আদানি গ্রুপ। বকেয়া আদায়ে গত ১৯ এপ্রিল পিডিবিকে কড়া চিঠি দিয়ে আগামী জুনের মধ্যে ৮৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার পরিশোধের তাগিদ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। নির্ধারিত সময়ে বিল না দিলে বিলম্ব ফি বা লেট ফি যুক্ত হবে, যা পিডিবির আর্থিক বোঝাকে আরও ভারী করবে।
বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জ্বালানি খরচ ক্রমাগত বাড়ায় পিডিবি এমনিতেই বড় ধরনের লোকসানে রয়েছে এবং পরিচালনার জন্য সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভরশীল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অর্থ বিভাগ ২৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি ছাড় করেছে। বর্তমান অর্থবছরে ৩৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও পিডিবির প্রকৃত চাহিদা এর চেয়ে অনেক বেশি। এর মধ্যেই নতুন যুক্ত হওয়া দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বিআর পাওয়ারজেনের শ্রীপুর ১৬০ মেগাওয়াট এবং আরপিসিএল-নরিনকোর পটুয়াখালী ১৩২০ মেগাওয়াট কেন্দ্রের ভর্তুকি আটকে দেওয়া হয়েছে। সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত কমিটির অনুমোদন না থাকা এবং বিদ্যুৎ বিভাগের স্পষ্টীকরণের অভাবে এ অর্থ ছাড় করেনি অর্থ বিভাগ। অথচ কেন্দ্র দুটি থেকে বিদ্যুৎ কেনা শুরু হওয়ায় বড় অঙ্কের বিল জমা পড়েছে, যা পরিশোধ না করলে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা করছে পিডিবি।
ভর্তুকি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে এবার বেশ কিছু প্রাতিষ্ঠানিক শর্তও দেওয়া হয়েছে। অর্থ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, মে মাস থেকে পিডিবিকে তাদের কেন্দ্রভিত্তিক মিশ্র জ্বালানি ব্যবহারের তুলনামূলক বিবরণী, কম দামে পাইকারি বিদ্যুৎ বিক্রির ফলে ক্ষতির পরিমাণ এবং আইপিপি, রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল কেন্দ্রগুলোর মাসভিত্তিক ক্ষতির আলাদা হিসাব জমা দিতে হবে। এছাড়া ক্যাপাসিটি চার্জ যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনা এবং পিডিবি ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিটগুলোতে ইআরপি (রিয়েল টাইম ডেটা) সফটওয়্যার বাস্তবায়নেরও কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অর্থ বিভাগের এমন কড়াকড়ি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পিডিবির এক কর্মকর্তার মতে, বিশ্ববাজারে জ্বালানির অস্থিরতা ও দেশীয় গ্যাস সংকটের কারণে উচ্চমূল্যে এলএনজি ও ফার্নেস অয়েল ব্যবহার করতে হচ্ছে। এই কঠিন সময়ে অর্থ বিভাগের নতুন শর্তগুলো বিদ্যুৎ উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে অর্থ বিভাগের বাজেট-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব মোহাম্মদ ফারুক-উজ-জামান এ পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তিনি জানান, পিডিবিকে আর্থিকভাবে আরও সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ করতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকার জ্বালানি খাতে সহায়তা অব্যাহত রাখলেও তা আর্থিক বিধিনিষেধ ও নিয়মের মধ্যেই হতে হবে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ইজাজ হোসেনও অর্থ বিভাগের এ উদ্যোগের সঙ্গে একমত পোষণ করে জানিয়েছেন, ভর্তুকির যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। এক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে (বিইআরসি) আরও নিবিড়ভাবে কাজ করার পরামর্শ দেন তিনি। তার মতে, শর্তের কারণে সাময়িক লোডশেডিং বা উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটলেও সামগ্রিক সংকট মোকাবিলা এবং বিদ্যুৎ খাতে দীর্ঘমেয়াদি শৃঙ্খলা ফেরাতে এই ধরনের কড়াকড়ি এখন অপরিহার্য।
/এমএকে/

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে ‘ফুয়েল লোডিং’ শুরু
আদানির ৯২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হলো জাতীয় গ্রিডে


