৫ শর্তে আটকে আছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তি
সিটিজেন ডেস্ক

৫ শর্তে আটকে আছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তি
সিটিজেন ডেস্ক
প্রকাশ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৪: ১৭

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পতাকা। ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও গত দুই মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসান ঘটাতে শেষ পর্যন্ত আলোচনার টেবিলে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান। তবে ২ দেশের মধ্যে বিদ্যমান গভীর মতপার্থক্য এবং বেশ কিছু মৌলিক শর্ত নিয়ে তৈরি হয়েছে অচলাবস্থা। একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর পথে প্রধান ৫টি শর্ত বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পারমাণবিক কর্মসূচি
শান্তি আলোচনার প্রথম ও অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, ইরানকে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি এবং স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে। তবে তেহরান এ দাবি মানতে নারাজ। ইরান জানিয়েছে, তারা তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর কোনো বিধিনিষেধ স্থায়ীভাবে মেনে নেবে না। যেকোনো ধরনের চুক্তি বা বিধিনিষেধ হতে হবে নির্দিষ্ট কয়েক বছরের জন্য, যা পরবর্তীতে আবারও আলোচনার সাপেক্ষে নির্ধারিত হবে।
ইউরেনিয়াম মজুত ও নিয়ন্ত্রণ
বর্তমানে ইরানের হাতে প্রায় ৪০০ কেজি (৮৮০ পাউন্ড) উচ্চ মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শর্ত দিয়েছেন, নিরাপত্তার স্বার্থে ইউরেনিয়ামের সম্পূর্ণ মজুত যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। তেহরান এ প্রস্তাবকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা এটিকে সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে এবং মজুতকৃত ইউরেনিয়াম কোনো তৃতীয় পক্ষের হাতে তুলে দিতে তারা ইচ্ছুক নয়।
বন্দর ও হরমুজ প্রণালি অবরোধ
হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগরে জাহাজ চলাচল নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধ চলছে। ইরান জানিয়েছে, যদি যুক্তরাষ্ট্র তাদের বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার না করে, তবে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধও বহাল থাকবে। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান বেশ অনড়। তাদের দাবি, কোনো চূড়ান্ত ও স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানোর আগে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে অর্থনৈতিক অবরোধ তুলে নেওয়ার প্রশ্নই আসে না।
বিদেশে আটকা পড়া অর্থ
ইরানের অর্থনীতি বর্তমানে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে চরম সংকটে। এ সংকট কাটিয়ে উঠতে শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে ইরান দুটি দাবি সামনে এনেছে প্রথমত, তাদের ওপর থেকে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করতে হবে এবং দ্বিতীয়ত, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আটকা পড়ে থাকা তাদের প্রায় ২ হাজার কোটি (২০ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার অবিলম্বে ফেরত দিতে হবে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ফেরত পাওয়ার বিষয়টি ইরানের জন্য একটি বড় শর্ত।
যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দাবি
আলোচনার টেবিলে ইরান সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে বিশাল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করে। তেহরানের দাবি অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের যে ব্যাপক পরিকাঠামোগত ও জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার বিনিময়ে দেশ দুটিকে যৌথভাবে প্রায় ২৭ হাজার কোটি (২৭০ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে। এ বিপুল অঙ্কের আর্থিক দাবি বর্তমান আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সূত্র: আল জাজিরা

দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও গত দুই মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসান ঘটাতে শেষ পর্যন্ত আলোচনার টেবিলে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান। তবে ২ দেশের মধ্যে বিদ্যমান গভীর মতপার্থক্য এবং বেশ কিছু মৌলিক শর্ত নিয়ে তৈরি হয়েছে অচলাবস্থা। একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর পথে প্রধান ৫টি শর্ত বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পারমাণবিক কর্মসূচি
শান্তি আলোচনার প্রথম ও অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, ইরানকে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি এবং স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে। তবে তেহরান এ দাবি মানতে নারাজ। ইরান জানিয়েছে, তারা তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর কোনো বিধিনিষেধ স্থায়ীভাবে মেনে নেবে না। যেকোনো ধরনের চুক্তি বা বিধিনিষেধ হতে হবে নির্দিষ্ট কয়েক বছরের জন্য, যা পরবর্তীতে আবারও আলোচনার সাপেক্ষে নির্ধারিত হবে।
ইউরেনিয়াম মজুত ও নিয়ন্ত্রণ
বর্তমানে ইরানের হাতে প্রায় ৪০০ কেজি (৮৮০ পাউন্ড) উচ্চ মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শর্ত দিয়েছেন, নিরাপত্তার স্বার্থে ইউরেনিয়ামের সম্পূর্ণ মজুত যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। তেহরান এ প্রস্তাবকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা এটিকে সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে এবং মজুতকৃত ইউরেনিয়াম কোনো তৃতীয় পক্ষের হাতে তুলে দিতে তারা ইচ্ছুক নয়।
বন্দর ও হরমুজ প্রণালি অবরোধ
হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগরে জাহাজ চলাচল নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধ চলছে। ইরান জানিয়েছে, যদি যুক্তরাষ্ট্র তাদের বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার না করে, তবে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধও বহাল থাকবে। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান বেশ অনড়। তাদের দাবি, কোনো চূড়ান্ত ও স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানোর আগে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে অর্থনৈতিক অবরোধ তুলে নেওয়ার প্রশ্নই আসে না।
বিদেশে আটকা পড়া অর্থ
ইরানের অর্থনীতি বর্তমানে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে চরম সংকটে। এ সংকট কাটিয়ে উঠতে শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে ইরান দুটি দাবি সামনে এনেছে প্রথমত, তাদের ওপর থেকে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করতে হবে এবং দ্বিতীয়ত, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আটকা পড়ে থাকা তাদের প্রায় ২ হাজার কোটি (২০ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার অবিলম্বে ফেরত দিতে হবে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ফেরত পাওয়ার বিষয়টি ইরানের জন্য একটি বড় শর্ত।
যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দাবি
আলোচনার টেবিলে ইরান সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে বিশাল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করে। তেহরানের দাবি অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের যে ব্যাপক পরিকাঠামোগত ও জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার বিনিময়ে দেশ দুটিকে যৌথভাবে প্রায় ২৭ হাজার কোটি (২৭০ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে। এ বিপুল অঙ্কের আর্থিক দাবি বর্তমান আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সূত্র: আল জাজিরা

৫ শর্তে আটকে আছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তি
সিটিজেন ডেস্ক
প্রকাশ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৪: ১৭

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পতাকা। ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও গত দুই মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসান ঘটাতে শেষ পর্যন্ত আলোচনার টেবিলে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান। তবে ২ দেশের মধ্যে বিদ্যমান গভীর মতপার্থক্য এবং বেশ কিছু মৌলিক শর্ত নিয়ে তৈরি হয়েছে অচলাবস্থা। একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর পথে প্রধান ৫টি শর্ত বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পারমাণবিক কর্মসূচি
শান্তি আলোচনার প্রথম ও অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, ইরানকে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি এবং স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে। তবে তেহরান এ দাবি মানতে নারাজ। ইরান জানিয়েছে, তারা তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর কোনো বিধিনিষেধ স্থায়ীভাবে মেনে নেবে না। যেকোনো ধরনের চুক্তি বা বিধিনিষেধ হতে হবে নির্দিষ্ট কয়েক বছরের জন্য, যা পরবর্তীতে আবারও আলোচনার সাপেক্ষে নির্ধারিত হবে।
ইউরেনিয়াম মজুত ও নিয়ন্ত্রণ
বর্তমানে ইরানের হাতে প্রায় ৪০০ কেজি (৮৮০ পাউন্ড) উচ্চ মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শর্ত দিয়েছেন, নিরাপত্তার স্বার্থে ইউরেনিয়ামের সম্পূর্ণ মজুত যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। তেহরান এ প্রস্তাবকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা এটিকে সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে এবং মজুতকৃত ইউরেনিয়াম কোনো তৃতীয় পক্ষের হাতে তুলে দিতে তারা ইচ্ছুক নয়।
বন্দর ও হরমুজ প্রণালি অবরোধ
হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগরে জাহাজ চলাচল নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধ চলছে। ইরান জানিয়েছে, যদি যুক্তরাষ্ট্র তাদের বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার না করে, তবে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধও বহাল থাকবে। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান বেশ অনড়। তাদের দাবি, কোনো চূড়ান্ত ও স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানোর আগে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে অর্থনৈতিক অবরোধ তুলে নেওয়ার প্রশ্নই আসে না।
বিদেশে আটকা পড়া অর্থ
ইরানের অর্থনীতি বর্তমানে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে চরম সংকটে। এ সংকট কাটিয়ে উঠতে শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে ইরান দুটি দাবি সামনে এনেছে প্রথমত, তাদের ওপর থেকে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করতে হবে এবং দ্বিতীয়ত, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আটকা পড়ে থাকা তাদের প্রায় ২ হাজার কোটি (২০ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার অবিলম্বে ফেরত দিতে হবে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ফেরত পাওয়ার বিষয়টি ইরানের জন্য একটি বড় শর্ত।
যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দাবি
আলোচনার টেবিলে ইরান সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে বিশাল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করে। তেহরানের দাবি অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের যে ব্যাপক পরিকাঠামোগত ও জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার বিনিময়ে দেশ দুটিকে যৌথভাবে প্রায় ২৭ হাজার কোটি (২৭০ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে। এ বিপুল অঙ্কের আর্থিক দাবি বর্তমান আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সূত্র: আল জাজিরা
/এমএকে/

পাকিস্তান সফর বাতিল করলেন ট্রাম্প
ইরান যুদ্ধের ৫৭তম দিন: কূটনৈতিক চাপ ও অনিশ্চয়তা


