ইসরায়েলে ফিলিস্তিনি নারী বন্দিদের ওপর চলছে পৈশাচিক নির্যাতন
সিটিজেন ডেস্ক

ইসরায়েলে ফিলিস্তিনি নারী বন্দিদের ওপর চলছে পৈশাচিক নির্যাতন
সিটিজেন ডেস্ক
প্রকাশ : ১১ মে ২০২৬, ১৫: ২২

ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলের দামোন কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনি নারীদের ওপর অমানবিক ও পদ্ধতিগত নির্যাতনের এক বিভীষিকাময় চিত্র সামনে এনেছে ফিলিস্তিনি বন্দি সমিতি। রবিবার (১০ মে) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, মার্চ ও এপ্রিল মাসে এ কারাগারের নারী সেকশনগুলোতে অন্তত ১০টি পৃথক অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী, যেখানে বন্দিদের ওপর চালানো হয়েছে পৈশাচিক শারীরিক ও মানসিক নিপীড়ন।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অভিযানের সময় কারারক্ষীরা বন্দিদের বেধড়ক মারধর করা, জোরপূর্বক মাটিতে শুইয়ে রাখা এবং পিঠমোড়া করে হাতকড়া পরানোর মতো নিষ্ঠুর আচরণ করেছে। দামোন কারাগার থেকে সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া নারীদের সাক্ষ্য অনুযায়ী, পুরুষ ও নারী কারারক্ষীরা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে বন্দিদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে, যার ফলে অনেকের শরীরেই গুরুতর আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। বর্তমানে ইসরায়েল মোট ৮৮ জন ফিলিস্তিনি নারী বন্দির অধিকাংশকে দামোন কারাগারে আটকে রেখেছে, আর বাকিরা বিভিন্ন জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্রে রয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের দাবি অনুযায়ী ‘উস্কানি’ দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, আটককৃতদের মধ্যে দুজন অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে এবং তিনজন গর্ভবতী নারী রয়েছেন।
২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে নারী বন্দিদের জন্য নির্জন কারাবাসের ব্যবহার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। অন্তত ৬ জন নারীকে টানা দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে নির্জন প্রকোষ্ঠে আটকে রাখার তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া চলমান গণ-গ্রেপ্তারের ফলে কারাগারগুলোতে ধারণক্ষমতার বাইরে বন্দি রাখা হচ্ছে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে প্রতিটি সেলে ১০ জনেরও বেশি নারীকে থাকতে হচ্ছে এবং তাদের অনেকেরই ঠাঁই হচ্ছে কনকনে ঠান্ডা মেঝেতে। বন্দিদের দেওয়া তথ্যে আরও জানা গেছে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ অনাহার নীতিকে নির্যাতনের অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে, বিশেষ করে ইসরায়েলি ছুটির দিনগুলোতে খাবার সরবরাহ প্রায় বন্ধ করে দেওয়া হয়।
নির্যাতনের আরেকটি জঘন্য রূপ হিসেবে নগ্ন তল্লাশি এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে হাশারোন ও দামোন কারাগারে স্থানান্তরের সময় নারীদের অপমানজনক ও লাঞ্ছনাকরভাবে বিবস্ত্র করে তল্লাশি চালানো হয়, যা মূলত যৌন নিপীড়নের একটি পরিকল্পিত রূপ। অসুস্থ বন্দিদের ক্ষেত্রেও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের আচরণ অত্যন্ত অমানবিক। দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্তদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে না এবং এমনকি দুজন ক্যান্সার আক্রান্ত নারীকেও ন্যূনতম চিকিৎসা ছাড়াই ফেলে রাখা হয়েছে। অধিকাংশ নারী বন্দিকে কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই গোপন ফাইলের ভিত্তিতে প্রশাসনিক আটকাদেশে রাখা হয়েছে।
এ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ফিলিস্তিনি বন্দি সমিতি অবিলম্বে গর্ভবতী, অসুস্থ ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের মুক্তির দাবি জানিয়েছে এবং এ পদ্ধতিগত নির্যাতনকে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে চলমান গণহত্যার একটি অংশ হিসেবে অভিহিত করেছে। উল্লেখ্য, পিএলও-র বন্দি বিষয়ক কমিশনের প্রধান রায়েদ আবু আল-হুমুস এ পরিস্থিতিকে নীরব গণহত্যা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বর্তমানে ইসরায়েলি কারাগারগুলোতে ৯,৪০০ এর বেশি ফিলিস্তিনি বন্দি রয়েছেন যারা চিকিৎসা অবহেলা ও চরম নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

ইসরায়েলের দামোন কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনি নারীদের ওপর অমানবিক ও পদ্ধতিগত নির্যাতনের এক বিভীষিকাময় চিত্র সামনে এনেছে ফিলিস্তিনি বন্দি সমিতি। রবিবার (১০ মে) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, মার্চ ও এপ্রিল মাসে এ কারাগারের নারী সেকশনগুলোতে অন্তত ১০টি পৃথক অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী, যেখানে বন্দিদের ওপর চালানো হয়েছে পৈশাচিক শারীরিক ও মানসিক নিপীড়ন।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অভিযানের সময় কারারক্ষীরা বন্দিদের বেধড়ক মারধর করা, জোরপূর্বক মাটিতে শুইয়ে রাখা এবং পিঠমোড়া করে হাতকড়া পরানোর মতো নিষ্ঠুর আচরণ করেছে। দামোন কারাগার থেকে সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া নারীদের সাক্ষ্য অনুযায়ী, পুরুষ ও নারী কারারক্ষীরা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে বন্দিদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে, যার ফলে অনেকের শরীরেই গুরুতর আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। বর্তমানে ইসরায়েল মোট ৮৮ জন ফিলিস্তিনি নারী বন্দির অধিকাংশকে দামোন কারাগারে আটকে রেখেছে, আর বাকিরা বিভিন্ন জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্রে রয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের দাবি অনুযায়ী ‘উস্কানি’ দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, আটককৃতদের মধ্যে দুজন অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে এবং তিনজন গর্ভবতী নারী রয়েছেন।
২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে নারী বন্দিদের জন্য নির্জন কারাবাসের ব্যবহার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। অন্তত ৬ জন নারীকে টানা দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে নির্জন প্রকোষ্ঠে আটকে রাখার তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া চলমান গণ-গ্রেপ্তারের ফলে কারাগারগুলোতে ধারণক্ষমতার বাইরে বন্দি রাখা হচ্ছে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে প্রতিটি সেলে ১০ জনেরও বেশি নারীকে থাকতে হচ্ছে এবং তাদের অনেকেরই ঠাঁই হচ্ছে কনকনে ঠান্ডা মেঝেতে। বন্দিদের দেওয়া তথ্যে আরও জানা গেছে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ অনাহার নীতিকে নির্যাতনের অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে, বিশেষ করে ইসরায়েলি ছুটির দিনগুলোতে খাবার সরবরাহ প্রায় বন্ধ করে দেওয়া হয়।
নির্যাতনের আরেকটি জঘন্য রূপ হিসেবে নগ্ন তল্লাশি এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে হাশারোন ও দামোন কারাগারে স্থানান্তরের সময় নারীদের অপমানজনক ও লাঞ্ছনাকরভাবে বিবস্ত্র করে তল্লাশি চালানো হয়, যা মূলত যৌন নিপীড়নের একটি পরিকল্পিত রূপ। অসুস্থ বন্দিদের ক্ষেত্রেও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের আচরণ অত্যন্ত অমানবিক। দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্তদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে না এবং এমনকি দুজন ক্যান্সার আক্রান্ত নারীকেও ন্যূনতম চিকিৎসা ছাড়াই ফেলে রাখা হয়েছে। অধিকাংশ নারী বন্দিকে কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই গোপন ফাইলের ভিত্তিতে প্রশাসনিক আটকাদেশে রাখা হয়েছে।
এ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ফিলিস্তিনি বন্দি সমিতি অবিলম্বে গর্ভবতী, অসুস্থ ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের মুক্তির দাবি জানিয়েছে এবং এ পদ্ধতিগত নির্যাতনকে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে চলমান গণহত্যার একটি অংশ হিসেবে অভিহিত করেছে। উল্লেখ্য, পিএলও-র বন্দি বিষয়ক কমিশনের প্রধান রায়েদ আবু আল-হুমুস এ পরিস্থিতিকে নীরব গণহত্যা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বর্তমানে ইসরায়েলি কারাগারগুলোতে ৯,৪০০ এর বেশি ফিলিস্তিনি বন্দি রয়েছেন যারা চিকিৎসা অবহেলা ও চরম নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

ইসরায়েলে ফিলিস্তিনি নারী বন্দিদের ওপর চলছে পৈশাচিক নির্যাতন
সিটিজেন ডেস্ক
প্রকাশ : ১১ মে ২০২৬, ১৫: ২২

ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলের দামোন কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনি নারীদের ওপর অমানবিক ও পদ্ধতিগত নির্যাতনের এক বিভীষিকাময় চিত্র সামনে এনেছে ফিলিস্তিনি বন্দি সমিতি। রবিবার (১০ মে) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, মার্চ ও এপ্রিল মাসে এ কারাগারের নারী সেকশনগুলোতে অন্তত ১০টি পৃথক অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী, যেখানে বন্দিদের ওপর চালানো হয়েছে পৈশাচিক শারীরিক ও মানসিক নিপীড়ন।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অভিযানের সময় কারারক্ষীরা বন্দিদের বেধড়ক মারধর করা, জোরপূর্বক মাটিতে শুইয়ে রাখা এবং পিঠমোড়া করে হাতকড়া পরানোর মতো নিষ্ঠুর আচরণ করেছে। দামোন কারাগার থেকে সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া নারীদের সাক্ষ্য অনুযায়ী, পুরুষ ও নারী কারারক্ষীরা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে বন্দিদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে, যার ফলে অনেকের শরীরেই গুরুতর আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। বর্তমানে ইসরায়েল মোট ৮৮ জন ফিলিস্তিনি নারী বন্দির অধিকাংশকে দামোন কারাগারে আটকে রেখেছে, আর বাকিরা বিভিন্ন জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্রে রয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের দাবি অনুযায়ী ‘উস্কানি’ দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, আটককৃতদের মধ্যে দুজন অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে এবং তিনজন গর্ভবতী নারী রয়েছেন।
২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে নারী বন্দিদের জন্য নির্জন কারাবাসের ব্যবহার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। অন্তত ৬ জন নারীকে টানা দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে নির্জন প্রকোষ্ঠে আটকে রাখার তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া চলমান গণ-গ্রেপ্তারের ফলে কারাগারগুলোতে ধারণক্ষমতার বাইরে বন্দি রাখা হচ্ছে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে প্রতিটি সেলে ১০ জনেরও বেশি নারীকে থাকতে হচ্ছে এবং তাদের অনেকেরই ঠাঁই হচ্ছে কনকনে ঠান্ডা মেঝেতে। বন্দিদের দেওয়া তথ্যে আরও জানা গেছে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ অনাহার নীতিকে নির্যাতনের অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে, বিশেষ করে ইসরায়েলি ছুটির দিনগুলোতে খাবার সরবরাহ প্রায় বন্ধ করে দেওয়া হয়।
নির্যাতনের আরেকটি জঘন্য রূপ হিসেবে নগ্ন তল্লাশি এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে হাশারোন ও দামোন কারাগারে স্থানান্তরের সময় নারীদের অপমানজনক ও লাঞ্ছনাকরভাবে বিবস্ত্র করে তল্লাশি চালানো হয়, যা মূলত যৌন নিপীড়নের একটি পরিকল্পিত রূপ। অসুস্থ বন্দিদের ক্ষেত্রেও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের আচরণ অত্যন্ত অমানবিক। দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্তদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে না এবং এমনকি দুজন ক্যান্সার আক্রান্ত নারীকেও ন্যূনতম চিকিৎসা ছাড়াই ফেলে রাখা হয়েছে। অধিকাংশ নারী বন্দিকে কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই গোপন ফাইলের ভিত্তিতে প্রশাসনিক আটকাদেশে রাখা হয়েছে।
এ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ফিলিস্তিনি বন্দি সমিতি অবিলম্বে গর্ভবতী, অসুস্থ ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের মুক্তির দাবি জানিয়েছে এবং এ পদ্ধতিগত নির্যাতনকে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে চলমান গণহত্যার একটি অংশ হিসেবে অভিহিত করেছে। উল্লেখ্য, পিএলও-র বন্দি বিষয়ক কমিশনের প্রধান রায়েদ আবু আল-হুমুস এ পরিস্থিতিকে নীরব গণহত্যা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বর্তমানে ইসরায়েলি কারাগারগুলোতে ৯,৪০০ এর বেশি ফিলিস্তিনি বন্দি রয়েছেন যারা চিকিৎসা অবহেলা ও চরম নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
/এমএকে/

ফিলিস্তিনে থামছেই না ইসরায়েলি বর্বরতা; ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪০ ফিলিস্তিনি নিহত


