শিরোনাম

হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করতে নতুন প্রস্তাব ইরানের

সিটিজেন ডেস্ক
হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করতে নতুন প্রস্তাব ইরানের
ইরানের জাতীয় পতাকা। ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করাসহ যুদ্ধের অবসান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া এ প্রস্তাবে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং চলমান যুদ্ধ বন্ধের কথা বলা হলেও পরমাণু সমঝোতার আলোচনাটি পরবর্তী সময়ের জন্য স্থগিত রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এক মার্কিন কর্মকর্তা এবং এ বিষয়ে অবগত দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে রবিবার (২৬ এপ্রিল) এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তার জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক শীর্ষ দলের সঙ্গে শীঘ্রই একটি সিচুয়েশন রুম বৈঠক করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইরানের এ নতুন প্রস্তাবে দাবি করা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে পারাপার হওয়া ইরানি সম্পদের ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার করতে হবে। তবে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে মনে করা হচ্ছে, এ অবরোধই বর্তমানে ইরানি শাসনের ওপর একটি পরমাণু চুক্তির জন্য চাপ সৃষ্টির একমাত্র বড় হাতিয়ার।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইতোমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছেন, যতক্ষণ না একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তি সম্পন্ন হচ্ছে, ততক্ষণ অবরোধ থাকবে। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, যখন সিস্টেমে প্রচুর পরিমাণ তেলের প্রবাহ থাকে এবং কোনো কারণে কন্টেইনার বা জাহাজে তা ভরা সম্ভব না হওয়ায় লাইনটি বন্ধ হয়ে যায়, তখন সেই লাইন ভেতর থেকেই বিস্ফোরিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। তার মতে, এ পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য ইরানের হাতে ৩ দিনের মতো সময় আছে। ট্রাম্প আরও যোগ করেন, একবার এ ব্যবস্থাটি বিস্ফোরিত হলে তা আর আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে না এবং এর উৎপাদন ক্ষমতা বর্তমানের তুলনায় ৫০ শতাংশে নেমে আসবে। তাই তিনি মনে করছেন, ইরান বর্তমানে প্রচণ্ড চাপের মুখে রয়েছে।

এদিকে, ওমানের সাথে আলোচনার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে ইরান। রবিবার রাতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ওমান সফর শেষে পাকিস্তান পৌঁছেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাঘচি জানান, ওমান এবং ইরানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক এবং আঞ্চলিক উন্নয়ন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। হরমুজ প্রণালির উপকূলীয় রাষ্ট্র হিসেবে তাদের মূল লক্ষ্য ছিল প্রতিবেশী রাষ্ট্র এবং বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তের সবার স্বার্থে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার উপায় খুঁজে বের করা। ওমান সরকারের আতিথেয়তার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, এ আলোচনা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত জরুরি ছিল। আরাঘচির এ সফর এবং পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠানো প্রস্তাবটি বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র: দ্য জেরুজালেম পোস্ট

/এমএকে/