অস্তিত্ব সংকটে বাংলার লোকজ পেশা, হারিয়ে যাচ্ছে হাজার বছরের ঐতিহ্য

অস্তিত্ব সংকটে বাংলার লোকজ পেশা, হারিয়ে যাচ্ছে হাজার বছরের ঐতিহ্য
সিটিজেন ডেস্ক

আধুনিক প্রযুক্তির জয়জয়কারে বদলে যাচ্ছে আমাদের জীবন। যান্ত্রিকতার এই প্রবল স্রোতে টিকতে না পেরে বিলুপ্তির পথে পা বাড়িয়েছে বাঙালির হাজার বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী বেশ কিছু পেশা। এক সময় গ্রাম-বাংলার অর্থনীতি ও সংস্কৃতির প্রাণ হিসেবে পরিচিত এই পেশাগুলো আজ কেবলই ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই নিচ্ছে।
পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী শাঁখারি বাজার এক সময় মুখরিত ছিল শঙ্খ কাটার শব্দে। নিপুণ হাতে শঙ্খ কেটে কারুকার্যময় অলঙ্কার তৈরিই ছিল এখানকার মূল পেশা। তবে বর্তমানে বাজারে প্লাস্টিক ও মেশিনে তৈরি সস্তা গয়নার প্রভাবে এই শিল্পের জৌলুস আজ তলানিতে।
কারিগররা বলেন, হাড়ভাঙা খাটুনি আর স্বল্প আয়ের কারণে নতুন প্রজন্ম এখন আর এই পেশায় আসতে চায় না। ফলে বংশপরম্পরায় চলে আসা এই শিল্পটি এখন বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে।
চাষাবাদের মৌসুমে বা কোরবানি ঈদে যে কামার পাড়ায় দম ফেলার সময় থাকতো না, সেখানে এখন বিরাজ করছে নিস্তব্ধতা। আধুনিক যন্ত্রপাতির সহজলভ্যতা আর লোহার আকাশচুম্বী দামের কারণে অনেক কামার পৈতৃক পেশা ছেড়ে বেছে নিচ্ছেন শ্রমিকের কাজ।
একই দশা মৃৎশিল্পেরও। মাটির হাঁড়ি-পাতিল ও সানকির জায়গা দখল করেছে অ্যালুমিনিয়াম আর মেলামাইন। পাল পাড়ায় এখন আর আগের মতো চাকা ঘোরে না। এই শিল্পটি এখন কেবল বৈশাখী মেলা কেন্দ্রিক মৌসুমি পেশায় পরিণত হয়েছে।
বাঙালি বিয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ 'পালকি' আজ পুরোপুরি বিলুপ্ত। বেহারাদের সেই ‘হুম হুনা’ গান আর মেঠো পথে নববধূর যাত্রা এখন কেবল প্রবীণদের স্মৃতিতে বেঁচে আছে। যান্ত্রিক যানবাহনের আধিক্যে এই পেশাটি এখন জাদুঘরে স্থান পেয়েছে।
সংস্কৃতি গবেষকদের মতে, একটি পেশার মৃত্যু মানে কেবল কিছু মানুষের কর্মসংস্থান হারানো নয়, বরং একটি জাতির হাজার বছরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক একটি অধ্যায় মুছে যাওয়া।
তাদের মতে, আমাদের শিকড়কে রক্ষা করতে এবং এই বিপন্ন কারিগরদের জীবনমান উন্নয়নে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সময়ের দাবি। অন্যথায়, অদূর ভবিষ্যতে এই সমৃদ্ধ লোকজ ঐতিহ্যগুলো কেবল রূপকথার গল্প হয়েই থেকে যাবে।

আধুনিক প্রযুক্তির জয়জয়কারে বদলে যাচ্ছে আমাদের জীবন। যান্ত্রিকতার এই প্রবল স্রোতে টিকতে না পেরে বিলুপ্তির পথে পা বাড়িয়েছে বাঙালির হাজার বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী বেশ কিছু পেশা। এক সময় গ্রাম-বাংলার অর্থনীতি ও সংস্কৃতির প্রাণ হিসেবে পরিচিত এই পেশাগুলো আজ কেবলই ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই নিচ্ছে।
পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী শাঁখারি বাজার এক সময় মুখরিত ছিল শঙ্খ কাটার শব্দে। নিপুণ হাতে শঙ্খ কেটে কারুকার্যময় অলঙ্কার তৈরিই ছিল এখানকার মূল পেশা। তবে বর্তমানে বাজারে প্লাস্টিক ও মেশিনে তৈরি সস্তা গয়নার প্রভাবে এই শিল্পের জৌলুস আজ তলানিতে।
কারিগররা বলেন, হাড়ভাঙা খাটুনি আর স্বল্প আয়ের কারণে নতুন প্রজন্ম এখন আর এই পেশায় আসতে চায় না। ফলে বংশপরম্পরায় চলে আসা এই শিল্পটি এখন বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে।
চাষাবাদের মৌসুমে বা কোরবানি ঈদে যে কামার পাড়ায় দম ফেলার সময় থাকতো না, সেখানে এখন বিরাজ করছে নিস্তব্ধতা। আধুনিক যন্ত্রপাতির সহজলভ্যতা আর লোহার আকাশচুম্বী দামের কারণে অনেক কামার পৈতৃক পেশা ছেড়ে বেছে নিচ্ছেন শ্রমিকের কাজ।
একই দশা মৃৎশিল্পেরও। মাটির হাঁড়ি-পাতিল ও সানকির জায়গা দখল করেছে অ্যালুমিনিয়াম আর মেলামাইন। পাল পাড়ায় এখন আর আগের মতো চাকা ঘোরে না। এই শিল্পটি এখন কেবল বৈশাখী মেলা কেন্দ্রিক মৌসুমি পেশায় পরিণত হয়েছে।
বাঙালি বিয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ 'পালকি' আজ পুরোপুরি বিলুপ্ত। বেহারাদের সেই ‘হুম হুনা’ গান আর মেঠো পথে নববধূর যাত্রা এখন কেবল প্রবীণদের স্মৃতিতে বেঁচে আছে। যান্ত্রিক যানবাহনের আধিক্যে এই পেশাটি এখন জাদুঘরে স্থান পেয়েছে।
সংস্কৃতি গবেষকদের মতে, একটি পেশার মৃত্যু মানে কেবল কিছু মানুষের কর্মসংস্থান হারানো নয়, বরং একটি জাতির হাজার বছরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক একটি অধ্যায় মুছে যাওয়া।
তাদের মতে, আমাদের শিকড়কে রক্ষা করতে এবং এই বিপন্ন কারিগরদের জীবনমান উন্নয়নে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সময়ের দাবি। অন্যথায়, অদূর ভবিষ্যতে এই সমৃদ্ধ লোকজ ঐতিহ্যগুলো কেবল রূপকথার গল্প হয়েই থেকে যাবে।

অস্তিত্ব সংকটে বাংলার লোকজ পেশা, হারিয়ে যাচ্ছে হাজার বছরের ঐতিহ্য
সিটিজেন ডেস্ক

আধুনিক প্রযুক্তির জয়জয়কারে বদলে যাচ্ছে আমাদের জীবন। যান্ত্রিকতার এই প্রবল স্রোতে টিকতে না পেরে বিলুপ্তির পথে পা বাড়িয়েছে বাঙালির হাজার বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী বেশ কিছু পেশা। এক সময় গ্রাম-বাংলার অর্থনীতি ও সংস্কৃতির প্রাণ হিসেবে পরিচিত এই পেশাগুলো আজ কেবলই ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই নিচ্ছে।
পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী শাঁখারি বাজার এক সময় মুখরিত ছিল শঙ্খ কাটার শব্দে। নিপুণ হাতে শঙ্খ কেটে কারুকার্যময় অলঙ্কার তৈরিই ছিল এখানকার মূল পেশা। তবে বর্তমানে বাজারে প্লাস্টিক ও মেশিনে তৈরি সস্তা গয়নার প্রভাবে এই শিল্পের জৌলুস আজ তলানিতে।
কারিগররা বলেন, হাড়ভাঙা খাটুনি আর স্বল্প আয়ের কারণে নতুন প্রজন্ম এখন আর এই পেশায় আসতে চায় না। ফলে বংশপরম্পরায় চলে আসা এই শিল্পটি এখন বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে।
চাষাবাদের মৌসুমে বা কোরবানি ঈদে যে কামার পাড়ায় দম ফেলার সময় থাকতো না, সেখানে এখন বিরাজ করছে নিস্তব্ধতা। আধুনিক যন্ত্রপাতির সহজলভ্যতা আর লোহার আকাশচুম্বী দামের কারণে অনেক কামার পৈতৃক পেশা ছেড়ে বেছে নিচ্ছেন শ্রমিকের কাজ।
একই দশা মৃৎশিল্পেরও। মাটির হাঁড়ি-পাতিল ও সানকির জায়গা দখল করেছে অ্যালুমিনিয়াম আর মেলামাইন। পাল পাড়ায় এখন আর আগের মতো চাকা ঘোরে না। এই শিল্পটি এখন কেবল বৈশাখী মেলা কেন্দ্রিক মৌসুমি পেশায় পরিণত হয়েছে।
বাঙালি বিয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ 'পালকি' আজ পুরোপুরি বিলুপ্ত। বেহারাদের সেই ‘হুম হুনা’ গান আর মেঠো পথে নববধূর যাত্রা এখন কেবল প্রবীণদের স্মৃতিতে বেঁচে আছে। যান্ত্রিক যানবাহনের আধিক্যে এই পেশাটি এখন জাদুঘরে স্থান পেয়েছে।
সংস্কৃতি গবেষকদের মতে, একটি পেশার মৃত্যু মানে কেবল কিছু মানুষের কর্মসংস্থান হারানো নয়, বরং একটি জাতির হাজার বছরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক একটি অধ্যায় মুছে যাওয়া।
তাদের মতে, আমাদের শিকড়কে রক্ষা করতে এবং এই বিপন্ন কারিগরদের জীবনমান উন্নয়নে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সময়ের দাবি। অন্যথায়, অদূর ভবিষ্যতে এই সমৃদ্ধ লোকজ ঐতিহ্যগুলো কেবল রূপকথার গল্প হয়েই থেকে যাবে।




