জরুরিভিত্তিতে ৩০০ কোটি ডলার ঋণ চায় সরকার

জরুরিভিত্তিতে ৩০০ কোটি ডলার ঋণ চায় সরকার
সিটিজেন ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা ও যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল, গ্যাস এবং সারের দাম বেড়েছে। এই বাড়তি দামের কারণে আগামী ৪ মাসে এসব অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আমদানিতে বাংলাদেশের প্রয়োজন প্রায় ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার।
বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতার কারণে অর্থনীতির ওপর তৈরি হওয়া বড় ধরনের চাপ সামাল দিতে ৩০০ কোটি ডলার বা প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকার বিদেশি ঋণের খোঁজ করছে সরকার। জরুরি এ ঋণসহায়তা পাওয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সামষ্টিক অর্থনীতি শাখা ইতোমধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগকে (ইআরডি) একটি চিঠি দিয়েছে। চিঠির সঙ্গে একটি বিস্তারিত অবস্থানপত্রও যুক্ত করে দেওয়া হয়েছে, যেখানে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর সৃষ্ট চাপের সার্বিক চিত্র তথ্য-উপাত্তসহ তুলে ধরা হয়েছে।
মূলত তিনটি ক্ষেত্রে এ ঋণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দেওয়া অবস্থানপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথমত, এ অর্থ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত বা রিজার্ভ সুরক্ষিত রাখার পাশাপাশি জ্বালানি, সার ও খাদ্যপণ্য আমদানি নিরবচ্ছিন্ন করতে সহায়তা করবে। দ্বিতীয়ত, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের নির্দিষ্ট আয়ের জনগোষ্ঠীকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানে এটি কাজে লাগবে। তৃতীয়ত, দেশের বাজারে জ্বালানি তেল, গ্যাস ও সারের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় উপকরণের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে এই ঋণের অর্থ ব্যয় করা সম্ভব হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয় তাদের অবস্থানপত্রে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতার কারণে বাংলাদেশের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য বর্তমানে ব্যাপক চাপের মুখে পড়েছে। তাই জরুরি এ প্রয়োজন মেটানো এবং দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে এই বিদেশি ঋণসহায়তা অত্যন্ত জরুরি।
এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় ও ইআরডির শীর্ষস্থানীয় কোনো কর্মকর্তার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এর কারণ হিসেবে জানা গেছে, বর্তমান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ অর্থ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগের ১৪ জন শীর্ষ কর্মকর্তা ১৩ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে শুরু হওয়া বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বসন্তকালীন সভায় যোগ দিতে গেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সভায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আইএমএফের কাছে বাড়তি ঋণ পাওয়ার বিষয়টি জোরালোভাবে উপস্থাপন করা হবে। এর আগে গত ৩১ মার্চ একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অর্থমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, তিনি আসন্ন বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বসন্তকালীন সভায় বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরবেন।
এদিকে ইআরডি সূত্র থেকে জানা গেছে, জরুরি এ ঋণ পাওয়ার উদ্দেশ্যে ইতোমধ্যে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এবং এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক (এআইআইবি) সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার সঙ্গে প্রাথমিক পর্যায়ে যোগাযোগ শুরু হয়েছে। যদিও বাংলাদেশ অতীতেও এসব সংস্থার কাছ থেকে বাজেট সহায়তা নিয়েছে, তবে সে সময় উন্নয়ন-সহযোগীদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কাঠামোগত সংস্কারের শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছিল। অতীতের সেই শর্তগুলোর মধ্যে কিছু বাস্তবায়িত হলেও বেশ কিছু শর্ত এখনও অপূর্ণ রয়ে গেছে। ফলে নতুন করে ঋণ সহায়তা চাইতে গেলে পূর্বের সংস্কার কর্মসূচির অগ্রগতি নিয়ে দাতা সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে প্রশ্নের সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে, আইএমএফের মতো আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থাগুলো বরাবরই জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে ঢালাওভাবে ভর্তুকি দেওয়ার বিরোধী। তবে সম্ভাব্য বিরোধিতার জবাবে অর্থ মন্ত্রণালয় তাদের অবস্থানপত্রে যুক্তি তুলে ধরেছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের দেওয়া এই ভর্তুকি হবে সম্পূর্ণ স্বল্পমেয়াদি এবং সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমুখী। একইসঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ানোর জন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও দাতা সংস্থাগুলোকে আশ্বস্ত করা হচ্ছে।
তবে এসব ঋণ খোঁজার প্রক্রিয়ার মধ্যেই বাংলাদেশের সামগ্রিক বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। প্রাপ্ত তথ্যমতে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে দেশের মোট বৈদেশিক ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১১৩ দশমিক ৫১ বিলিয়ন বা ১১ হাজার ৩৫১ কোটি মার্কিন ডলার, যা দেশীয় মুদ্রায় প্রায় ১৩ লাখ ৯৬ হাজার ১৭৩ কোটি টাকার সমান। সরকারের এ ঋণ খোঁজার উদ্যোগ প্রসঙ্গে বিশ্বব্যাংকের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় বিশ্বের অনেক দেশই এখন উন্নয়ন-সহযোগীদের কাছ থেকে বাজেট সহায়তা চাচ্ছে। তাই বাংলাদেশের উদ্যোগটিকে তিনি অস্বাভাবিক বলে মনে করেন না। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, উন্নয়ন-সহযোগীরা অবশ্যই ঋণ দেওয়ার আগে জানতে চাইবে যে সরকার অর্থনীতির চাপ মোকাবিলায় অভ্যন্তরীণভাবে কী ধরনের নীতিগত পদক্ষেপ নিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়লেও দেশের ভেতরে কেন তা এখনো সমন্বয় করা হয়নি।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা ও যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল, গ্যাস এবং সারের দাম বেড়েছে। এই বাড়তি দামের কারণে আগামী ৪ মাসে এসব অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আমদানিতে বাংলাদেশের প্রয়োজন প্রায় ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার।
বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতার কারণে অর্থনীতির ওপর তৈরি হওয়া বড় ধরনের চাপ সামাল দিতে ৩০০ কোটি ডলার বা প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকার বিদেশি ঋণের খোঁজ করছে সরকার। জরুরি এ ঋণসহায়তা পাওয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সামষ্টিক অর্থনীতি শাখা ইতোমধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগকে (ইআরডি) একটি চিঠি দিয়েছে। চিঠির সঙ্গে একটি বিস্তারিত অবস্থানপত্রও যুক্ত করে দেওয়া হয়েছে, যেখানে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর সৃষ্ট চাপের সার্বিক চিত্র তথ্য-উপাত্তসহ তুলে ধরা হয়েছে।
মূলত তিনটি ক্ষেত্রে এ ঋণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দেওয়া অবস্থানপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথমত, এ অর্থ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত বা রিজার্ভ সুরক্ষিত রাখার পাশাপাশি জ্বালানি, সার ও খাদ্যপণ্য আমদানি নিরবচ্ছিন্ন করতে সহায়তা করবে। দ্বিতীয়ত, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের নির্দিষ্ট আয়ের জনগোষ্ঠীকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানে এটি কাজে লাগবে। তৃতীয়ত, দেশের বাজারে জ্বালানি তেল, গ্যাস ও সারের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় উপকরণের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে এই ঋণের অর্থ ব্যয় করা সম্ভব হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয় তাদের অবস্থানপত্রে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতার কারণে বাংলাদেশের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য বর্তমানে ব্যাপক চাপের মুখে পড়েছে। তাই জরুরি এ প্রয়োজন মেটানো এবং দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে এই বিদেশি ঋণসহায়তা অত্যন্ত জরুরি।
এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় ও ইআরডির শীর্ষস্থানীয় কোনো কর্মকর্তার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এর কারণ হিসেবে জানা গেছে, বর্তমান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ অর্থ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগের ১৪ জন শীর্ষ কর্মকর্তা ১৩ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে শুরু হওয়া বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বসন্তকালীন সভায় যোগ দিতে গেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সভায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আইএমএফের কাছে বাড়তি ঋণ পাওয়ার বিষয়টি জোরালোভাবে উপস্থাপন করা হবে। এর আগে গত ৩১ মার্চ একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অর্থমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, তিনি আসন্ন বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বসন্তকালীন সভায় বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরবেন।
এদিকে ইআরডি সূত্র থেকে জানা গেছে, জরুরি এ ঋণ পাওয়ার উদ্দেশ্যে ইতোমধ্যে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এবং এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক (এআইআইবি) সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার সঙ্গে প্রাথমিক পর্যায়ে যোগাযোগ শুরু হয়েছে। যদিও বাংলাদেশ অতীতেও এসব সংস্থার কাছ থেকে বাজেট সহায়তা নিয়েছে, তবে সে সময় উন্নয়ন-সহযোগীদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কাঠামোগত সংস্কারের শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছিল। অতীতের সেই শর্তগুলোর মধ্যে কিছু বাস্তবায়িত হলেও বেশ কিছু শর্ত এখনও অপূর্ণ রয়ে গেছে। ফলে নতুন করে ঋণ সহায়তা চাইতে গেলে পূর্বের সংস্কার কর্মসূচির অগ্রগতি নিয়ে দাতা সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে প্রশ্নের সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে, আইএমএফের মতো আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থাগুলো বরাবরই জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে ঢালাওভাবে ভর্তুকি দেওয়ার বিরোধী। তবে সম্ভাব্য বিরোধিতার জবাবে অর্থ মন্ত্রণালয় তাদের অবস্থানপত্রে যুক্তি তুলে ধরেছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের দেওয়া এই ভর্তুকি হবে সম্পূর্ণ স্বল্পমেয়াদি এবং সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমুখী। একইসঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ানোর জন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও দাতা সংস্থাগুলোকে আশ্বস্ত করা হচ্ছে।
তবে এসব ঋণ খোঁজার প্রক্রিয়ার মধ্যেই বাংলাদেশের সামগ্রিক বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। প্রাপ্ত তথ্যমতে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে দেশের মোট বৈদেশিক ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১১৩ দশমিক ৫১ বিলিয়ন বা ১১ হাজার ৩৫১ কোটি মার্কিন ডলার, যা দেশীয় মুদ্রায় প্রায় ১৩ লাখ ৯৬ হাজার ১৭৩ কোটি টাকার সমান। সরকারের এ ঋণ খোঁজার উদ্যোগ প্রসঙ্গে বিশ্বব্যাংকের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় বিশ্বের অনেক দেশই এখন উন্নয়ন-সহযোগীদের কাছ থেকে বাজেট সহায়তা চাচ্ছে। তাই বাংলাদেশের উদ্যোগটিকে তিনি অস্বাভাবিক বলে মনে করেন না। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, উন্নয়ন-সহযোগীরা অবশ্যই ঋণ দেওয়ার আগে জানতে চাইবে যে সরকার অর্থনীতির চাপ মোকাবিলায় অভ্যন্তরীণভাবে কী ধরনের নীতিগত পদক্ষেপ নিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়লেও দেশের ভেতরে কেন তা এখনো সমন্বয় করা হয়নি।

জরুরিভিত্তিতে ৩০০ কোটি ডলার ঋণ চায় সরকার
সিটিজেন ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা ও যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল, গ্যাস এবং সারের দাম বেড়েছে। এই বাড়তি দামের কারণে আগামী ৪ মাসে এসব অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আমদানিতে বাংলাদেশের প্রয়োজন প্রায় ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার।
বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতার কারণে অর্থনীতির ওপর তৈরি হওয়া বড় ধরনের চাপ সামাল দিতে ৩০০ কোটি ডলার বা প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকার বিদেশি ঋণের খোঁজ করছে সরকার। জরুরি এ ঋণসহায়তা পাওয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সামষ্টিক অর্থনীতি শাখা ইতোমধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগকে (ইআরডি) একটি চিঠি দিয়েছে। চিঠির সঙ্গে একটি বিস্তারিত অবস্থানপত্রও যুক্ত করে দেওয়া হয়েছে, যেখানে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর সৃষ্ট চাপের সার্বিক চিত্র তথ্য-উপাত্তসহ তুলে ধরা হয়েছে।
মূলত তিনটি ক্ষেত্রে এ ঋণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দেওয়া অবস্থানপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথমত, এ অর্থ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত বা রিজার্ভ সুরক্ষিত রাখার পাশাপাশি জ্বালানি, সার ও খাদ্যপণ্য আমদানি নিরবচ্ছিন্ন করতে সহায়তা করবে। দ্বিতীয়ত, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের নির্দিষ্ট আয়ের জনগোষ্ঠীকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানে এটি কাজে লাগবে। তৃতীয়ত, দেশের বাজারে জ্বালানি তেল, গ্যাস ও সারের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় উপকরণের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে এই ঋণের অর্থ ব্যয় করা সম্ভব হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয় তাদের অবস্থানপত্রে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতার কারণে বাংলাদেশের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য বর্তমানে ব্যাপক চাপের মুখে পড়েছে। তাই জরুরি এ প্রয়োজন মেটানো এবং দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে এই বিদেশি ঋণসহায়তা অত্যন্ত জরুরি।
এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় ও ইআরডির শীর্ষস্থানীয় কোনো কর্মকর্তার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এর কারণ হিসেবে জানা গেছে, বর্তমান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ অর্থ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগের ১৪ জন শীর্ষ কর্মকর্তা ১৩ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে শুরু হওয়া বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বসন্তকালীন সভায় যোগ দিতে গেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সভায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আইএমএফের কাছে বাড়তি ঋণ পাওয়ার বিষয়টি জোরালোভাবে উপস্থাপন করা হবে। এর আগে গত ৩১ মার্চ একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অর্থমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, তিনি আসন্ন বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বসন্তকালীন সভায় বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরবেন।
এদিকে ইআরডি সূত্র থেকে জানা গেছে, জরুরি এ ঋণ পাওয়ার উদ্দেশ্যে ইতোমধ্যে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এবং এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক (এআইআইবি) সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার সঙ্গে প্রাথমিক পর্যায়ে যোগাযোগ শুরু হয়েছে। যদিও বাংলাদেশ অতীতেও এসব সংস্থার কাছ থেকে বাজেট সহায়তা নিয়েছে, তবে সে সময় উন্নয়ন-সহযোগীদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কাঠামোগত সংস্কারের শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছিল। অতীতের সেই শর্তগুলোর মধ্যে কিছু বাস্তবায়িত হলেও বেশ কিছু শর্ত এখনও অপূর্ণ রয়ে গেছে। ফলে নতুন করে ঋণ সহায়তা চাইতে গেলে পূর্বের সংস্কার কর্মসূচির অগ্রগতি নিয়ে দাতা সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে প্রশ্নের সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে, আইএমএফের মতো আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থাগুলো বরাবরই জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে ঢালাওভাবে ভর্তুকি দেওয়ার বিরোধী। তবে সম্ভাব্য বিরোধিতার জবাবে অর্থ মন্ত্রণালয় তাদের অবস্থানপত্রে যুক্তি তুলে ধরেছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের দেওয়া এই ভর্তুকি হবে সম্পূর্ণ স্বল্পমেয়াদি এবং সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমুখী। একইসঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ানোর জন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও দাতা সংস্থাগুলোকে আশ্বস্ত করা হচ্ছে।
তবে এসব ঋণ খোঁজার প্রক্রিয়ার মধ্যেই বাংলাদেশের সামগ্রিক বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। প্রাপ্ত তথ্যমতে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে দেশের মোট বৈদেশিক ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১১৩ দশমিক ৫১ বিলিয়ন বা ১১ হাজার ৩৫১ কোটি মার্কিন ডলার, যা দেশীয় মুদ্রায় প্রায় ১৩ লাখ ৯৬ হাজার ১৭৩ কোটি টাকার সমান। সরকারের এ ঋণ খোঁজার উদ্যোগ প্রসঙ্গে বিশ্বব্যাংকের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় বিশ্বের অনেক দেশই এখন উন্নয়ন-সহযোগীদের কাছ থেকে বাজেট সহায়তা চাচ্ছে। তাই বাংলাদেশের উদ্যোগটিকে তিনি অস্বাভাবিক বলে মনে করেন না। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, উন্নয়ন-সহযোগীরা অবশ্যই ঋণ দেওয়ার আগে জানতে চাইবে যে সরকার অর্থনীতির চাপ মোকাবিলায় অভ্যন্তরীণভাবে কী ধরনের নীতিগত পদক্ষেপ নিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়লেও দেশের ভেতরে কেন তা এখনো সমন্বয় করা হয়নি।




